মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে বড় ধরনের বিমান ও যাত্রী সংকটের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমান চলাচল বিপর্যস্ত হয়েছে। সংঘাতের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৩ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে আনুমানিক তিন লাখেরও বেশি যাত্রী আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়েছেন।
দুবাই, আবুধাবি, দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শারজাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এই অবস্থার প্রভাব শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, বরং বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গে সংযোগকারী এই কেন্দ্রগুলোর বন্ধ থাকা মানে হলো বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে “ডমিনো প্রভাব” সৃষ্টি হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সোমবারে (২ মার্চ) জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ৩ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই তাদের নাগরিকদের উদ্ধার করতে সহায়তার জন্য দল পাঠাচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবুধাবি বিমানবন্দরে আটকে থাকা যাত্রীরা টার্মিনালে ঘুমিয়ে আছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফ্লাইট পুনরায় বুকিং, হোটেল ভাউচার সংগ্রহ বা অন্যান্য সহায়তা পেতে চেষ্টা করছেন।
নিচের টেবিলে প্রধান বাতিল হওয়া বিমানবন্দর এবং প্রভাবিত যাত্রীসংখ্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিমানবন্দর | অবস্থান | বাতিল ফ্লাইট সংখ্যা | প্রভাবিত যাত্রী (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|
| দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ১,২০০+ | ১,২০,০০০+ |
| আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৮০০+ | ৮০,০০০+ |
| হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | কাতার | ৭০০+ | ৬৫,০০০+ |
| শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৪০০+ | ৩৫,০০০+ |
| অন্যান্য ছোট বিমানবন্দর | বিভিন্ন | ৩০০+ | ৩০,০০০+ |
সংঘাত ও আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে এই অঞ্চল জুড়ে যাত্রীদের ভবিষ্যৎ বিমান ভ্রমণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো সতর্কতা জারি করেছে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প রুট ও হোটেল ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যদি সংঘাত অব্যাহত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই বিমানবন্দরগুলো এবং বৈশ্বিক বিমান চলাচলের উপর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। ফলে যাত্রীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে বাধ্য হবেন, এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্য উভয়ই ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবে।
