দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ২৯৯ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। অপরজন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার। মৃতদের মধ্যে দুজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৯ হাজার ৮০১ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ১১১ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমিভাব এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া কিংবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকেও বিরত থাকা উচিত।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও আশপাশের জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা রোগটি প্রতিরোধে সতর্কতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।









