১৭ বছর ধরার রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ১,২০২টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক হয়রানির বিরুদ্ধে সরকারের সমন্বিত মনোযোগ ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতিফলন দেখা যায়।

আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক খুদেবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত রোববার একই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১,৬০৬টি রাজনৈতিক মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহারের অনুমোদন পেয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা নিয়ে সমন্বিত পর্যালোচনা করা হয়েছিল। পর্যালোচনার ফলস্বরূপ ২৩,৮৬৫টি মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারে করা হয়েছিল।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক পরিবেশকে স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ করার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিকদের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতার দিকে আরও এগিয়ে নেবে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

সময়কালমামলার ধরনঅনুমোদিত মামলামন্তব্য
১৭ বছর (ফ্যাসিস্ট সরকার আমল)রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা১,২০২আজ মঙ্গলবার অনুমোদিত
১৭ বছর (ফ্যাসিস্ট সরকার আমল)রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা১,৬০৬গত রোববার অনুমোদিত
সামগ্রিক পর্যালোচনা (আওয়ামী লীগ সরকারের আমল)রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা২৩,৮৬৫অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান হয়রানি ও চাপ কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “এছাড়া, সরকার সর্বদা রাজনৈতিক সংলাপ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিয়মিত মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি দৃঢ় হবে এবং নাগরিকদের মধ্যে সরকারের প্রতি বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংলাপের পথ সুগম হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ন্যায়নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।