আইপিএলের প্রথম শিরোপাজয়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালস বড় অঙ্কের অর্থে নতুন মালিকানায় চলে গেছে। প্রায় ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, মূল্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। এই যৌথ ক্রয়ে যুক্ত হয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধি লক্ষ্মী এন মিত্তাল ও তাঁর পরিবার এবং ভ্যাকসিন ব্যবসায়ী ও ধনকুবের আদর পুনাওয়ালা।
আজ প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, এই লেনদেনের মাধ্যমে শুধু রাজস্থান রয়্যালস নয়, তাদের মালিকানাধীন অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ন্ত্রণও নতুন মালিকদের হাতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্ল রয়্যালস এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বার্বাডোস রয়্যালস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী মালিকানার কাঠামো নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে—
| পক্ষ | মালিকানার অংশ |
|---|---|
| লক্ষ্মী এন মিত্তাল ও পরিবার | প্রায় ৭৫ শতাংশ |
| আদর পুনাওয়ালা | প্রায় ১৮ শতাংশ |
| বিদ্যমান বিনিয়োগকারী (মনোজ বাদালে সহ) | প্রায় ৭ শতাংশ |
বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম মনোজ বাদালে জানিয়েছেন, মালিকানা পরিবর্তন হলেও তিনি আগের মতোই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত থাকবেন।
লক্ষ্মী এন মিত্তাল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ক্রিকেটের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং রাজস্থানের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে রাজস্থান রয়্যালস তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি বলেন, এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগ তাঁর জন্য আবেগ ও ঐতিহ্যের সমন্বয়।
অন্যদিকে আদর পুনাওয়ালা জানান, একটি শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহাসিক ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে অংশ নিতে পারা তাঁর জন্য আনন্দের বিষয়। তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মনোজ বাদালে নতুন মালিকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা, ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ এবং রাজস্থান ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০০৮ সালে শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে রাজস্থান রয়্যালস প্রথম আইপিএল শিরোপা জিতেছিল। তবে এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দলটি আর কোনো শিরোপা অর্জন করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স দলটিকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে।
বর্তমান মৌসুমে দলটি ১০টি ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা পাঞ্জাব কিংসের সঙ্গে তাদের ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট, যা প্রতিযোগিতাকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বাজারমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৭৭ কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত অন্যতম বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন মালিকানার মাধ্যমে রাজস্থান রয়্যালসের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হবে বলে ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদিও দলটির দীর্ঘ শিরোপা খরা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
