১৫০ ম্যাচ পর তুলনা: ইয়ামাল কোথায় আছেন, মেসি কোথায় ছিলেন

বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৫০টি ম্যাচ খেলার নজির স্থাপন করেছেন লামিনে ইয়ামাল। এত কম বয়সে এত বড় মঞ্চে এমন অভিজ্ঞতা অর্জন—এটাই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ইয়ামাল শুধু খেলা নয়, মাঠে তাঁর জাদু দেখিয়ে বিস্ময় উপহার দিচ্ছেন। সেই কারণেই তাঁকে ইতিমধ্যেই লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। মেসিও লা মাসিয়ার ছাত্র ছিলেন এবং পরে বার্সেলোনার কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন।

যদিও ইয়ামাল বারবার বলেছেন যে তিনি মেসির ছায়ায় থাকতে চান না এবং নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে চান, পরিসংখ্যানের আলোয় তুলনাটা অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। ক্যারিয়ারের প্রথম ১৫০ ম্যাচ শেষে ইয়ামাল ও মেসির পারফরম্যান্স তুলনা করলে চমকপ্রদ তথ্য দেখা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বয়সে। ইয়ামাল মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৫০তম ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে মেসি এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ২১ বছর বয়সে। অর্থাৎ, ইয়ামাল কম বয়সে আরও অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। ১৮ বছর বয়সে মেসি তখন বার্সেলোনার মূল একাদশে নিজের জায়গা তৈরি করতে লড়ছিলেন, আর ইয়ামাল এখনই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবে পরিসংখ্যান দেখলে লক্ষ্য করা যায়, গোলের ক্ষেত্রে মেসি সামান্য এগিয়ে। মেসি প্রথম ১৫০ ম্যাচে করেছেন ৫৮টি গোল, যেখানে ইয়ামালের গোল সংখ্যা ৪০। তবে অ্যাসিস্ট ও গোলে অবদানে ইয়ামাল এগিয়ে। প্রথম ১৫০ ম্যাচে তাঁর ৫৭টি অ্যাসিস্ট এবং মোট ৯৭টি গোল/অ্যাসিস্টে অবদান ছিল। একই সময়ে মেসির মোট অবদান ছিল ৮৯টি। মিনিটের হিসাবেও পার্থক্য খুব সামান্য—ইয়ামাল প্রতি ১১৩ মিনিটে একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন, মেসি করতেন প্রতি ১১৫ মিনিটে।

নিচের টেবিলে তাদের পারফরম্যান্সের তুলনা তুলে ধরা হলো:

পরিসংখ্যানইয়ামালমেসি
ম্যাচ১৫০১৫০
গোল৪০৫৮
অ্যাসিস্ট৫৭৩১
মোট গোলে অবদান৯৭৮৯
পেনাল্টি গোল
মিনিট/গোল–অ্যাসিস্ট১১২.৮১১৪.৭

সংখ্যা সবকিছু না বললেও কখনও কখনও এগুলো ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। ইয়ামালের ক্ষেত্রে সেই ইঙ্গিত খুবই শক্তিশালী। তাঁর খেলা দেখলে বোঝা যায়, তিনি কেবল প্রতিভাবানই নন, বরং ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সেরা হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও রাখেন।

ফুটবলপ্রেমীরা এখন এক নতুন রাজপুত্রের রাজা হয়ে ওঠার গল্প উপভোগ করছেন। তবে মেসির অতিমানবীয় ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হবে ইয়ামালের আসল চ্যালেঞ্জ। সময়ই দেখাবে, ইয়ামাল কি মেসির সেই উচ্চতার শিখরে পৌঁছাতে পারবেন কি না। তবে এতটাই নিশ্চিত যে, তিনি ইতিমধ্যেই ইতিহাসে নিজের একটি উজ্জ্বল অধ্যায় লিখতে শুরু করেছেন।