নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গত বছরের মার্চে ঘটে যাওয়া প্রকাশ্য গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষের ঘটনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সন্ত্রাসী সোহাগ (৩৪) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে তাকে দুই সহযোগী—আব্দুল জলিল (৩২) ও মো. পারভেজ (২৫)—সহ আটক করে যৌথ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
সোহাগ স্থানীয়দের কাছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগরের ফুফাতো ভাই হিসেবে পরিচিত। পুলিশ জানায়, গত ৬ মার্চ ২০২৫ সালে আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় সোহাগ পিস্তল হাতে গুলিবর্ষণ করেছিলেন। ওই ঘটনায় অন্তত আট জন আহত হন, তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সোহাগ প্রায় ১০ মাস আত্মগোপনে ছিলেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কদমতলীতে অভিযান চালিয়ে সোহাগ ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তারা মাদকাসক্ত ছিলেন। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি, তবে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।”
ওসি আরও জানান, সোহাগের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মাদক ও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার সহযোগীদেরও মাদক ও অন্যান্য অপরাধের মামলায় বিচার চলছে। অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে সোহাগ কিছুই স্বীকার করেননি। পুলিশ ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতে রিমান্ড আবেদন করবে এবং অস্ত্র উদ্ধার হলে অস্ত্র আইনে মামলা হবে।
ঘটনার মূল সময়রেখা নিম্নরূপ:
| তারিখ/সময় | ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ৬ মার্চ ২০২৫ | ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ সংঘর্ষ | ইউনিভার্সেল পোশাক কারখানার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ফাঁকা গুলি ছোড়া |
| ৬ মার্চ ২০২৫ | প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ | সোহাগ পিস্তল হাতে গুলিবর্ষণ, অন্তত ৮ জন আহত |
| মার্চ ২০২৫ – জানুয়ারি ২০২৬ | পলাতক সময় | সোহাগ প্রায় ১০ মাস গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলেন |
| ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | গ্রেপ্তার | সিদ্ধিরগঞ্জ কদমতলী থেকে সোহাগ ও দুই সহযোগী আটক, ১২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার |
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় সোহাগের আচরণ আতঙ্কজনক ছিল। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনের পরও যৌথ অভিযান সফলভাবে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে শিথিল নিরাপত্তা পরিবেশ ফিরে এসেছে।
