হিলি স্থলবন্দর তিন দিনের জন্য বন্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর তিনদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। হিলি কাস্টমস সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম মণ্ডল নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এছাড়াও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় বন্দরে সব ধরনের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, “এই বিষয়টি ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে আগেই চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলবে। নির্বাচনের পর, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে সব কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”

হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে কাজ করে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনে এটি প্রধান প্রবেশপথ। বিশেষ করে খাদ্যশস্য, শিল্পপণ্য, কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে হিলি বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এম আর জামান বাঁধন জানান, “বন্দর বন্ধের তিন দিনের মধ্যে কোনও পণ্য আমদানি বা রপ্তানি সম্ভব হবে না। তাই ব্যবসায়ীদের আগে থেকে তাদের সরবরাহ চেইন ও লজিস্টিক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।”

তিন দিনের বন্ধের সময়সূচি নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

দিন ও তারিখকার্যক্রমের অবস্থামন্তব্য
বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারিবন্ধসরকারি নির্বাচনি ছুটি
বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারিবন্ধসরকারি নির্বাচনি ছুটি
শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারিবন্ধসাপ্তাহিক ছুটি
শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারিস্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুসকল আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক

এই তিন দিনের স্থলবন্দর বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সময়মতো সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে ট্রানজিট পণ্য, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও পরিবহন সংক্রান্ত কার্যক্রম পূর্বনির্ধারিতভাবে পরিকল্পনা না করলে ব্যবসায়িক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

শাহিনুর ইসলাম মণ্ডল আরও বলেন, “এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা দেশের নির্বাচনি নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের উচিত এই সময়সূচি অনুযায়ী তাদের পণ্য ভ্যানে পাঠানো বা গ্রহণের পরিকল্পনা করা।”

হিলি স্থলবন্দর বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেললেও, পূর্বসতর্কতা এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রভাব কমানো সম্ভব। বন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।