মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের নাফিজ আহমেদ, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট, ছোটবেলা থেকেই সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য তাকে ভর্তি করা হয়েছিল মাদারীপুরের ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে। আর মাত্র তিন মাস পরই তিনি শিক্ষানবিশ প্রকৌশলী হিসেবে জাহাজে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন ভেস্তে গেল।
গত বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় একটি বাস দুর্ঘটনায় নাফিজ আহমেদ নিহত হন। বাসটি মিরসরাই থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকার মো. হেলালের মেয়ে ছাবিতুন নাহার এবং গাইবান্ধার কাতলামারী এলাকার মৃত নয়া ব্যাপারীর ছেলে মিন্টু মিয়াও প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ থেকে ছয়জন যাত্রী।
নাফিজের বাবা নুরুল আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিল। মাধ্যমিকে এ প্লাস পেয়েছিল। নাবিক হওয়ার প্রবল আগ্রহ ছিল তার। আমরা পাসপোর্ট বানানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলাম। তবে কিছুই আর হলো না। গত ২৯ ডিসেম্বর ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বাসে ওঠার সময় হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিল, আর সকালে ফিরল লাশ হয়ে।”
নাফিজ চট্টগ্রামের একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করার পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তার ভর্তি হওয়ার খুশি পরিবারে দীর্ঘ সময় ধরে আলো ছড়িয়েছিল।
গতকাল বেলা ১১টায় নাফিজের গ্রামের বাড়িতে তার লাশ ঘিরে শোকস্তব্ধ পরিবেশ বিরাজ করছিল। স্বজন, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নাফিজের লাশ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নাফিজের ভগ্নিপতি মোবারক হোসেন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক বোরহান উদ্দিন জানান, “দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। দুই গাড়ির চালক পালিয়ে গেছে। তদন্ত চলছে।”
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনায় নিহতদের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| নাম | বয়স | গ্রামের ঠিকানা | সম্পর্ক/পরিচয় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| নাফিজ আহমেদ | ২০ | মসজিদিয়া, খৈয়াছড়া | শিক্ষার্থী, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট | ছোটবেলা থেকেই নাবিক হওয়ার স্বপ্ন |
| ছাবিতুন নাহার | ১৯ | চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম | মো. হেলালের মেয়ে | বাসে যাত্রী |
| মিন্টু মিয়া | ২১ | কাতলামারী, গাইবান্ধা | মৃত নয়া ব্যাপারীর ছেলে | বাসে যাত্রী |
দুর্ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। নাফিজের পরিবার, বিশেষ করে তার বাবা, শোক সহ্য করতে পারছেন না। এই দুর্ঘটনা শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিরাপদ যাতায়াতের গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।
