হাসিবুর রহমান স্বপন (১৬ জুন ১৯৫৬ — ২ সেপ্টেম্বর ২০২১) বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধা যিনি সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
হাসিবুর রহমান স্বপন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন
হাসিবুর রহমান স্বপনের জন্ম ১৬ জুন ১৯৫৬ পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামে।
রাজনৈতিক জীবন
হাসিবুর রহমান স্বপন ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। তিনি প্রথম রাজনৈতিক জীবনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর ছিলেন শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দল থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৯৮ সালে সংসদ সদস্য পদ হারান। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি শিল্প-উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন।

সমালোচনা
হাসিবুর রহমান স্বপনের বিরুদ্ধে জাল স্বাক্ষরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে ২৫ জুলাই ২০১৮ সালে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। ৩ নভেম্বর ২০২০ সালে এ মামলায় তিনি শাহজাদপুর চৌকি আদালত থেকে খালাস পান।
মৃত্যু
স্বপন ২ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ