ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাকে শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনার পেছনের নেপথ্য চিত্র উন্মোচনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতের নাগালে এসেছে।
হাদিকে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে তাকে রাখা হয়েছে এবং মেডিকেল বোর্ড জানাচ্ছে, তার মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফুসফুসেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে অস্ত্রোপচার ও প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিডনির কার্যক্ষমতা কিছুটা ফিরে এসেছে। বর্তমানে হাদিকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে এবং ব্রেন প্রোটেকশন প্রটোকল অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল হান্নানের পিতার নাম মো. আবুল কাশেম। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হান্নান মোটরসাইকেলটি হামলায় ব্যবহৃত হলেও হামলার সরাসরি অংশগ্রহণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে। এটি প্রমাণ করে যে, হত্যাচেষ্টা একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা ছিল এবং এতে আরও সহযোগীর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস প্রতিরোধী ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার সময় তারা অতি দ্রুত সংঘটিত ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।
র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং হামলার মূল পরিকল্পককে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। মোটরসাইকেল ও মালিক শনাক্ত হওয়ায় তদন্তের কাজ অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হামলার পুরো চিত্র সামনে আসবে এবং দায়ীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।