হবিগঞ্জে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত বিরোধ শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে রাসেল মিয়া (৪৫) নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পুরো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন, যা বুধবার দুপুর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম রেজাউল করিম জরুরি ভিত্তিতে এ আদেশ জারি করেন। তিনি জানান, এলাকায় সহিংসতার ঝুঁকি এখনও রয়েছে, তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসমাগম নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কুহিন সওদাগর এবং ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি হান্নান মিয়ার মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি কুহিন সওদাগরের বাবাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হান্নানপক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী অবমাননাকর স্ট্যাটাস দিলে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বাড়ে। এর জেরে সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয়দের উদ্যোগে তখন পরিস্থিতি শান্ত হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।

পরদিন মঙ্গলবার সকালে উভয়পক্ষই আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শতাধিক লোকজন লাঠিসোটা, ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কাকাইলছেও গ্রামের ছোরত আলীর ছেলে রাসেল মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।

আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি আকবর হোসেন জানান, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।