হবিগঞ্জে গৃহবধূ হত্যার রহস্য উন্মোচন

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় গৃহবধূ নাজমা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন তথ্য প্রকাশের পর ঘটনার মোড় পরিবর্তন হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বেয়াইকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজের বোনের সতীনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আব্দুল গণির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ, পূর্বের মামলা ও প্রতিশোধের বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২০ অক্টোবর কাজিহাটা গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে নাজমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীর ভেজা অবস্থায় ছিল এবং শরীরে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

ঘটনার পর নিহতের মেয়ে নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে মামলার কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নিহতের সতীনের ভাই আব্দুল গণি। পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে সন্দেহ ঘনীভূত হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিছুদিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পরবর্তীতে মামলার বাদী নার্গিস আক্তার সংবাদ সম্মেলন করে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, মামলার আসামিদের পক্ষ নেওয়া হচ্ছে এবং আসামিদের বাইরে গিয়ে অন্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নিহতের ভাই মনির মিয়া অভিযোগ করেন, আব্দুল গণি পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বের মারামারি মামলার প্রতিশোধ নিতে তার বোনকে হত্যা করেছেন এবং পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, নার্গিস আক্তার বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন এবং তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় থাকেন না। কিছু স্থানীয় ব্যক্তির মতে, মামলাটি পারিবারিক বিরোধ ও প্রভাবের কারণে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের একজন ইন্সপেক্টর রাজীব কুমার দাশ জানান, মামলায় মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা অভিযোগের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা যায়, অধিকাংশ আসামির সঙ্গে আব্দুল গণির পূর্ব বিরোধ ও মামলা সংক্রান্ত সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুরুতে একজন শ্রমজীবী ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হলে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। পরে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করার কথা জানান। এরপর গভীর তদন্তে আব্দুল গণিকে গ্রেফতার করা হয়।

বর্তমানে মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
নিহতনাজমা আক্তার
ঘটনার স্থানকাজিহাটা, বাহুবল, হবিগঞ্জ
ঘটনার তারিখ২০ অক্টোবর (গত বছর)
মামলার বাদীনার্গিস আক্তার
আসামির সংখ্যা১০ জন
মূল তদন্তকারী সংস্থাপুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
প্রধান সন্দেহভাজনআব্দুল গণি
মামলার বর্তমান অবস্থাতদন্ত শেষ পর্যায়ে, অভিযোগপত্র প্রস্তুত

এই ঘটনায় পারিবারিক সম্পর্ক, পূর্ব বিরোধ এবং তদন্ত কার্যক্রম একত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উল্লেখ পাওয়া যায়।