বারহাট্টায় পলাতক আসামি গ্রেপ্তার অভিযান

নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আলোচিত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে জেলা শহরের একটি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মানিক (৩৫)। তিনি উপজেলার নৈহাটী গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংঘটিত একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মোট নয়টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে মারামারি, ধর্ষণ, দ্রুত বিচার আইন অনুযায়ী মামলা এবং হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে পালিয়ে ছিলেন।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গত ৮ মে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রথম অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে সে সময় তিনি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ঘটনাপ্রবাহ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তাকে ধরতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সাইকুল নামের এক মামলার বাদীর ওপর হামলা চালান এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরতে অভিযান জোরদার করে। শেষ পর্যন্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে জেলা শহরের একটি এলাকায় শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মানিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার সারসংক্ষেপ

ক্রমিকমামলার ধরনবর্তমান অবস্থামন্তব্য
মারামারিবিচারাধীনএকাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সংঘর্ষ
ধর্ষণবিচারাধীনগুরুতর অভিযোগ
দ্রুত বিচার আইনবিচারাধীনদ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত
হত্যাচেষ্টাগ্রেপ্তারি পরোয়ানাসক্রিয় মামলা
হত্যাচেষ্টাগ্রেপ্তারি পরোয়ানাতদন্তাধীন
মারামারিবিচারাধীনপূর্ববর্তী সংঘর্ষ সংক্রান্ত
ভয়ভীতি প্রদর্শনবিচারাধীনস্থানীয় অভিযোগ ভিত্তিক
অবৈধ হুমকিবিচারাধীনসাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ চলছে
হামলা ও জখমবিচারাধীনসাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এমন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।