খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই মার্চ ২০২৬, ৬:২৯ পিএম

হবিগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড সম্প্রতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোররা ধারালো অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদকসেবন, চুরি-ছিনতাই ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের মোহনপুর বাইপাস সড়ক ও অন্যান্য এলাকা থেকে সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে তিন জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, কিশোর গ্যাং নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শহরের রাজনগর, মহিলা কলেজ, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় ২০–২৫ জন কিশোর ধারালো চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে। ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা শহরে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শহরতলীর ধুলিয়াখাল বিসিক শিল্পনগরীতে ১০–১২ জনের একটি গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে কিশোররা এলাকার স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় কিশোরদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এই সুযোগেই তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
| তারিখ | স্থান | ঘটনার বিবরণ | আহত / গ্রেপ্তার |
|---|---|---|---|
| ১ মার্চ | মোহনপুর বাইপাস সড়ক | দুই পক্ষের কিশোর গ্যাং অস্ত্রসহ মহড়া, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া | গ্রেপ্তার ৩ জন |
| ২৪ ফেব্রুয়ারি | ধুলিয়াখাল | ইজিবাইক আটক, মারধর | আহত ২, গ্রেপ্তার–না |
| ১৬ জানুয়ারি | চুনারুঘাট মাজার মেলা | দোকানপাট ভাঙচুর, দর্শনার্থী মারধর | অন্তত ১০ জন আহত |
আটকরা হলেন মাছুলিয়া গ্রামের মৃত ছন্দু মিয়ার ছেলে রাকিব, অনন্তপুরের সেলিম মিয়ার ছেলে রাহিম ও উমেদনগর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে নুর আলী।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, “১৮ বছরের নিচে হওয়ায় কিশোররা আইনের বাইরে বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। মাদক, চুরি, ডাকাতি–সবকিছুতে তারা ভয়ছাড়া জড়াচ্ছে।” হবিগঞ্জ শিশু আদালতের পিপি হাফিজুল ইসলাম জানান, “খামখেয়ালিপনায় শিক্ষার পথ ত্যাগ, রাত ১১–১২টা পর্যন্ত আড্ডা ও খারাপ সঙ্গ কিশোরদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাং নির্মূলে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। যেসমস্ত এলাকায় কিশোর গ্যাং সক্রিয়, সেগুলোতে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য