রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যার মূল অভিযুক্ত শুটার রহিমকে গোয়েন্দা পুলিশ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় রহিমের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে অপর অভিযুক্ত মো. বিল্লালকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুসারে, গত ৭ জানুয়ারি রাতে আজিজুর রহমান মুছাব্বির তার বন্ধুদের সঙ্গে তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় আড্ডা দেন। আড্ডা শেষে রাত ৮টার দিকে তিনি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে তিনি মাত্র ১০ মিনিট চলার পরই আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচ জনের দ্বারা গতিরোধ করা হয়। অভিযুক্তরা মুছাব্বিরের উপর গুলি চালায়, ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারী মাসুদ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে, অভিযুক্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরই নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৪২) তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যসূচী
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বির |
| বয়স | জানা যায়নি |
| পদবি | স্বেচ্ছাসেবক দল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক |
| ঘটনার স্থান | পশ্চিম তেজতুরি বাজার, তেজগাঁও, ঢাকা |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ৭ জানুয়ারি, রাত ৮টা |
| অভিযুক্ত | রহিম (গ্রেফতার), মো. বিল্লাল (গ্রেফতার), অজ্ঞাত ২–৩ জন |
| অস্ত্র | দুটি উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র |
| আহত | সুফিয়ান বেপারী মাসুদ |
| হাসপাতালে প্রেরণ | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| মামলা দায়ের | সুরাইয়া বেগম, স্ত্রী, ৭ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় |
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, রহিম ও বিল্লালের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে আর কে-কে জড়িত তা চিহ্নিত করতে আরও অনুসন্ধান চলছে। স্থানীয়দের সুরক্ষা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেজগাঁও এলাকায় পুলিশের প্রহরী বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
