কানাডিয়ান গায়ক ও র্যাপার এপি ধিল্লনের নাম আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচিত। ইউটিউব ও বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তার গান মিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে। তবে এই বিশাল সফলতার পেছনে লুকানো আছে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য্য এবং অসংখ্য সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি তিনি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কাপিল শর্মা শো-এ তার জীবনযাত্রা শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি কানাডায় আগমনের পরকার অসুবিধা এবং সংগ্রামের কথা স্মরণ করেছেন।
Table of Contents
কানাডায় আগমনের পর সংগ্রাম
বর্তমানে এপি ধিল্লনের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৮৩ কোটি টাকা (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১০ কোটি)। তবে কানাডায় তার প্রারম্ভিক দিনগুলো ছিল অত্যন্ত কঠিন। ধিল্লন জানিয়েছেন, এক সময়ে তাকে রাস্তাতেই রাত কাটাতে হয়েছে এবং একাধিক চাকরি করতে হয়েছে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য।
তিনি বলেন,
“আমার কাছে ক্রেডিট কার্ড ছিল না, তাই হোটেলে চেক-ইন করতে পারিনি। শেষমেষ হোটেলের বাইরে ঘুমাতে হয়েছিল। বাবা আমাকে কিছু অর্থ পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু নিয়মগুলো কঠোর ছিল।”
দুটি রাত রাস্তায় কাটানোর পর, একজন ভারতীয় দম্পতি তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে তাকে হোটেল রুম বুক করতে সাহায্য করেন। ধিল্লন মনে করেন, এই ঘটনা তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল:
“অচেনা মানুষের বিশ্বাস ও দয়া আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।”
পরিশ্রম ও শিক্ষা
কলেজ জীবন চলাকালীন ধিল্লন একাধিক চাকরি করেন, দীর্ঘ সময় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তার কর্মদক্ষতা ও চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
| চাকরির ধরণ | সময়কাল | মূল অভিজ্ঞতা |
|---|---|---|
| গ্যাস স্টেশন এটেন্ডেন্ট | প্রতিদিন ১০–১২ ঘন্টা | পড়াশোনা চালিয়ে খরচ ম্যানেজ করা |
| কনভিনিয়েন্স স্টোর | কয়েক মাস | কাজের অভিজ্ঞতা ও গ্রাহক সেবা দক্ষতা অর্জন |
| বেস্ট বাই (ইলেকট্রনিক্স) | ১–২ বছর | প্রযুক্তি ও গ্রাহক সেবা শিখেছেন |
এই formative বছরগুলো ধৈর্য্য ও মানসিক শক্তি গড়ে তুলেছিল, যা পরবর্তীতে তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়েছে।
স্বপ্নের স্টুডিওর জন্ম
ধিল্লন তার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন একটি ছোট ভাড়া করা গ্যারেজে। মাত্র ১০×৬ ফুটের একটি ছোট রুমে তিনি প্লাইউড দিয়ে নিজেই একটি প্রাথমিক স্টুডিও তৈরি করেছিলেন।
“এই ছোট রুমটিই আমার শেখার ও গান অনুশীলনের স্থান ছিল। একদিন এটি আমার স্বপ্নের কারখানা হয়ে উঠলো।”
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
আজ ধিল্লন বিশ্বব্যাপী খ্যাতিমান গান যেমন Brown Munde, Excuses, Insane, With You, এবং Dil Nu-র জন্য পরিচিত। এই গানগুলো তাকে দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি এনে দিয়েছে।
ধিল্লনের জীবনগল্প—রাস্তার তলা থেকে কোটি ডলারের সঙ্গীত শিল্পী—অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বলেন,
“আমি কখনও থামিনি। এক ধাপ এক ধাপ করে এগিয়েছি। এখানে পৌঁছাতে প্রচেষ্টা ও ধৈর্য্য প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আমি কখনও বিশ্বাস হারাইনি।”
