হবিগঞ্জের বাহুবল বাজারে সিএনজি ও টমটম স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাহুবল বাজারের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাহুবল বাজারের বকুলতলা এলাকায় সিএনজি ও টমটম স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চালকদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল।
রোববার দুপুরে ওই বিরোধপূর্ণ স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সিএনজি ও টমটম চালকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রথমে কথা-কাটাকাটি হলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে বাজার ও পুরাতন হাসপাতাল সড়ক এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে আহতদের মধ্যে কারও নাম এবং তাদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বাহুবল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ থামানো হয়। পরে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন তালুকদার ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিএনজি ও টমটম স্ট্যান্ড নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বকুলতলা এলাকার ওই স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল। রোববারের বাগবিতণ্ডা সেই বিরোধকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষের নেতৃত্বে কারা ছিলেন বা সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা বা আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নজরে রাখছে বলে জানা গেছে।








