রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬তম স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে। অভিযানে নারীসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযান স্থানীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। সেনাবাহিনী আগে থেকেই ব্যাপক নজরদারি এবং সূক্ষ্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করে যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী অটো সজল এবং তার সহযোগীদের বসতবাড়ি তল্লাশি করা। অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অটো সজল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তার সহযোগী রাজু, ফারুক, জাহিদ, সজীব এবং জনিসসহ পরিবারের সদস্যদের আটক করা সম্ভব হয়। বর্তমানে অটো সজলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তল্লাশির সময় উদ্ধারকৃত মালামাল নিম্নরূপ:
| ধরন | পরিমাণ/বিস্তারিত |
|---|---|
| বিদেশি অটোমেটিক পিস্তল (৭.৬৫ মিমি) | ২টি |
| রাউন্ড গোলাবারুদ | ৮ রাউন্ড |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ৫,১০৮ পিস |
| হেরোইন | ২৭০ পুরিয়া |
| দেশীয় ধারালো অস্ত্র | ১৩টি |
| নগদ টাকা | ৮,২৬,৪৩০ টাকা |
| ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম | ৩টি |
| মোবাইল ফোন | ২০টি |
| বিদেশি মদ | ২ বোতল |
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অটো সজলের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিল। তারা অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাত এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাদক সরবরাহ করত। স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছিল।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানটি সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আটককৃত ব্যক্তিবর্গ এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।
সেনাবাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও সময়োপযোগী, সংগঠিত ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখবে। এই ধরনের অভিযানকে সেনাবাহিনী নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
