ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ক্রমবর্ধমান ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। এ সময়ে মোট আটটি কম্পন নথিভুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ভূমিকম্পটি বুধবার রাতের দিকে সংঘটিত হয়, যার মাত্রা ৪.১ রিখটার স্কেলে মাপা হয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ছোট ও মধ্যমানের কম্পনের এই পুনরাবৃত্তি ভূ-ভৌগোলিক অস্থিরতার ইঙ্গিত হতে পারে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই কম্পনগুলো তাত্ক্ষণিকভাবে ধ্বংসাত্মক নয়, তবে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ফেব্রুয়ারি মাসের ভূমিকম্পগুলোর সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ ও সময় (স্থানীয়) | ভূ-কেন্দ্র অবস্থান | রিখটার স্কেল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ ফেব্রুয়ারি | সিলেট (পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব) | ৩.০ | ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় ক্ষুদ্র কম্পন অনুভূত |
| ৩ ফেব্রুয়ারি (রাত) | মায়ানমার | ৫.৯ | শক্তিশালী কম্পন, বাংলাদেশে অনুভূত |
| ৩ ফেব্রুয়ারি (রাত) | মায়ানমার | ৫.২ | পরবর্তী কম্পন |
| ৪ ফেব্রুয়ারি, ০৪:৩৬:৪৬ | সাতক্ষীরা, কালারোয়া | ৪.১ | দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশে কম্পন অনুভূত |
| ৯ ফেব্রুয়ারি, ভোর | সিলেট, গোয়াইনহাট | ৩.৩ | স্থানীয় কম্পন |
| ১০ ফেব্রুয়ারি, দুপুর | সিলেট, গোয়াইনহাট | ৪.০ | স্থানীয় কম্পন |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১২:৪৬ | সুনামগঞ্জ, চাটক | ৪.১ | সিলেট অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কম্পন অনুভূত |
| ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২২:৫১:৪৯ | সাগাইং, মায়ানমার | ৫.১ | ঢাকায় হালকা কম্পন, কোনো ক্ষতি হয়নি |
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত কম্পনের উৎস ছিল মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চল। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিকাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূ-কেন্দ্রের অবস্থান ছিল ২৩.০৩১° উ.অ., ৯৪.৭৪৪° পূঃদ., প্রায় ১০১ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনটি মনিোয়া শহরের উত্তরের দিকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং মাওলাইক শহরের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দূরে সংঘটিত হয়। গভীরতার কারণে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ঘটেনি, তবে ঢাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
এটি গত বছরের ২১ নভেম্বরের বড় ভূমিকম্পের পরের পর্যবেক্ষণ। সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং এতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত, ৬০০-এর বেশি আহত ও ব্যাপক ভৌত ক্ষতি হয়েছিল।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, সাম্প্রতিক কম্পনের ঘন ঘনতা বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। তারা বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে ভূমিকম্প সচেতনতা বৃদ্ধি, জনসচেতনতা ও জরুরি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলা করা যায়।
এই তথ্য অনুসারে, নাগরিকদের যেকোনো সময় হালকা কম্পন অনুভূত হলে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
