আধুনিক ফুটবলের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন অ্যাস্টন ভিলার তারকা গোলরক্ষক ও আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসি ও আর্সেনালের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে কর্নার ও সেট-পিস পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা দেখানোর পর তাঁর এই দুর্বলতা এখন প্রতিপক্ষ কোচদের নজরেও পড়তে শুরু করেছে।
চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় পেলেও, কর্নার কিক থেকে প্রথম গোল হজম করতে হয় ভিলাকে। একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে আর্সেনালের বিপক্ষে, যেখানে লন্ডনের ক্লাবটি একের পর এক সেট-পিস আক্রমণে ভিলার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত ৪–১ ব্যবধানে বড় জয় তুলে নেয়। এই পরাজয়ে উনাই এমেরির দল শীর্ষ চারের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতির পর মার্তিনেজ এখন অতিরিক্ত অনুশীলনে মনোযোগী। ভিলার গোলকিপিং কোচ ও টেকনিক্যাল স্টাফের সঙ্গে তিনি বিশেষভাবে কাজ করছেন হাই বল, কর্নার কিক এবং লং থ্রো সামলানোর কৌশল নিয়ে। আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকদের ওপর যে শারীরিক চাপ বাড়ছে, সেটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ভিলা কোচ উনাই এমেরি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই নিজের মতামত জানিয়েছেন। রসিকতার সুরে তিনি বলেন,
“ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের ২.২০ মিটার বা সাত ফুটেরও বেশি লম্বা গোলকিপার দরকার হবে। প্রয়োজনে বক্সিং গ্লাভস পরিয়েও নামাতে হতে পারে!”
এমেরির মতে, বর্তমান ফুটবলে রেফারিরা আর আগের মতো গোলরক্ষকদের সুরক্ষা দিচ্ছেন না। কর্নার বা লং থ্রোয়ের সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা গোলকিপারকে ধাক্কা দেওয়া, ব্লক করা কিংবা চলাচলের পথ আটকে দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করছে, অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফাউলের বাঁশি বাজছে না। ফলে গোলকিপারদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
সেট-পিস রক্ষণে দলের ঘাটতির কথাও স্বীকার করেন এমেরি। তাঁর ভাষায়,
“এখন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে দুই-তিনজন খেলোয়াড় মিলে কিপারকে আটকে দেয়। আমরাও চাইলে এমন কৌশল নিতে পারি, তবে তার আগে আমাদের নিজেদের রক্ষণকে আরও শক্ত ও সংগঠিত করতে হবে।”
মার্তিনেজের এই দুর্বলতা যে প্রতিপক্ষের নজর এড়ায়নি, সেটি স্পষ্ট। শনিবার ভিলা পার্কে নটিংহাম ফরেস্টকে নিয়ে আসছেন শেন ডায়েচ, যিনি সেট-পিসকে বরাবরই বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। ফলে ম্যাচটিতে ভিলার গোলরক্ষণ কতটা উন্নত হয়েছে, সেটিই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সাম্প্রতিক ম্যাচে মার্তিনেজ ও ভিলার পরিস্থিতি :
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | ফলাফল | হজম করা গোলের ধরন |
|---|---|---|---|
| প্রিমিয়ার লিগ | চেলসি | জয় | কর্নার কিক |
| প্রিমিয়ার লিগ | আর্সেনাল | হার ১–৪ | কর্নার ও সেট-পিস |
সেট-পিস রক্ষণ ও গোলকিপিংয়ের এই চ্যালেঞ্জ অ্যাস্টন ভিলা কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা। মার্তিনেজের অতিরিক্ত অনুশীলন ও কৌশলগত উন্নতি আগামী ম্যাচগুলোতে কতটা ফল দেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে ভিলার মৌসুমের পরবর্তী পথচিত্র।
