“সূর্যগ্রহণ শেষ, এবার চন্দ্রগ্রহণ: কখন ও কোথায় দেখা যাবে?”

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কোনো সূর্যগ্রহণ দেখা যায়নি। সেই মহাজাগতিক ঘটনায় এই অঞ্চলের মানুষরা বঞ্চিত হয়েছেন। তবে এবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (Total Lunar Eclipse) দেখা যাবে। বাংলাদেশে এটি খালি চোখেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যদিও গ্রহণের সময় সীমিত।

চন্দ্রগ্রহণ কেন হয়?

চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্যের রেখায় অবস্থান করলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। তখন সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পড়তে পারে না এবং ঘটে চন্দ্রগ্রহণ।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লাল রঙ ধারণ করে। এ কারণে এই ঘটনাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (Blood Moon) বলা হয়। সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখতে কোনো ঝুঁকি নেই। এটি রাতের আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যায়।

বাংলাদেশের জন্য সময়সূচি

বাংলাদেশে চন্দ্রগ্রহণ ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেখা যাবে। পুরো গ্রহণ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে। এর মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় পূর্ণগ্রাস পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।

পর্যায়বাংলাদেশ সময় (BST)মন্তব্য
আংশিক গ্রহণ শুরুবিকাল ৪:৫৫চাঁদের একাংশে পৃথিবীর ছায়া পড়া শুরু
পূর্ণগ্রাস শুরুবিকাল ৫:২৮চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায়, রক্ত চাঁদ দেখা যাবে
পূর্ণগ্রাস শেষসন্ধ্যা ৬:০২পুরো রঙিন গ্রহণ শেষ, আবার অংশভাগে আসে
আংশিক গ্রহণ শেষরাত ৮:২৩পুরো চন্দ্রগ্রহণ শেষ

ভারতে পূর্ণগ্রাস পর্যায় শুরু হবে বিকাল ৪:৫৮ এবং শেষ হবে বিকাল ৫:৩২। খণ্ডগ্রাস পর্যায় রাত ৭:৫৩ পর্যন্ত দেখা যাবে।

কেন পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদ লাল দেখায়?

পূর্ণগ্রাসে চাঁদ কখনও সম্পূর্ণ কালো হয় না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে প্রতিসরিত (Refract) করে। সূর্যের আলোতে লাল অংশ কম বিচ্ছুরিত হয় এবং চাঁদের ওপর পড়ে। নীল ও সবুজ অংশ বাতাসের মাধ্যমে চার দিকে ছড়িয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে চাঁদকে গ্রহণের সময় গাঢ় লাল রঙে দেখা যায়।

চন্দ্রগ্রহণ এই কারণে শুধু এক মহাজাগতিক ঘটনা নয়, বরং এটি রাতের আকাশে একটি সুন্দর ভিজ্যুয়াল দৃশ্য প্রদান করে। বিশেষ করে খালি চোখে পর্যবেক্ষণ করার সুবিধার কারণে শিক্ষার্থীদের ও সাধারণ মানুষদের জন্য এটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।