সিরিয়ার দ্রুজ অধ্যুষিত সুয়েইদা অঞ্চলে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সরকার জানিয়েছে, এসব ঘটনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
Table of Contents
সংঘাতের পটভূমি
- সহিংসতা শুরু হয় ১৩ জুলাই, যখন দ্রুজ যোদ্ধা ও সুন্নি বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
- সংঘর্ষ রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়ে এক সপ্তাহেরও বেশি স্থায়ী হয়।
- শেষ পর্যন্ত গত রোববার যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা প্রশমিত হয়।
প্রাণহানির ভয়াবহ পরিসংখ্যান
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ১,৩০০-র বেশি লোক নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে:
| নিহতের শ্রেণি | সংখ্যা | মন্তব্য |
| দ্রুজ যোদ্ধা | ৫৩৩ জন | অধিকাংশ ফ্রন্টলাইনে |
| বেসামরিক দ্রুজ | ৩০০ জন | যাদের মধ্যে ১৯৬ জন সরাসরি সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহত |
| সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য | ৪২৩ জন | যুদ্ধের সময় সংঘর্ষে |
| বেদুইন সুন্নি | ৩৫ জন | এর মধ্যে ৩ জন বেসামরিক, যাদের দ্রুজ যোদ্ধারা হত্যা করেছে |
| ইসরাইলি হামলায় নিহত সরকারি সেনা | ১৫ জন | দ্রুজদের সমর্থনে বিমান হামলায় |
ভিডিও প্রমাণ ও তদন্ত উদ্যোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সুয়েইদায় কিছু অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে।
এই ভিডিওগুলো প্রকাশের পর সরকার কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়:
“এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আইন মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়,
“সামরিক পোশাক পরা একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠী সুয়েইদায় ভয়াবহ অপরাধ করেছে। এ বিষয়ে তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা বলেন,
“অপরাধে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, এমনকি তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্য হলেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
আলাওয়ি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত আরেক তদন্ত
একইদিনে সরকার মার্চ মাসে আলাওয়ি সম্প্রদায়ের বেসামরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সেখানে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির বর্তমান অবস্থা
- গত রোববার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
- বেদুইন ও উপজাতি যোদ্ধারা শহর ত্যাগ করলে দ্রুজ যোদ্ধারা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
- সরকারি বাহিনীও প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।
জাতিসংঘ ও ত্রাণ সহায়তা
- জাতিসংঘ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারা সুয়েইদা থেকে তাদের কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে।
- সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্ট-এর মাধ্যমে শহরটির জন্য একটি নতুন ত্রাণ চালান হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই সহিংসতা ও তদন্ত সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক জটিলতার একটি প্রতিফলন, যা আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
