বাংলাদেশ ফুটবলের ঘরোয়া লিগে ২০২৫ সালের শুরুতে উজ্জ্বল সূচনা হলেও, স্পনসর সমস্যা ঘিরে এক নতুন দুঃসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এই মৌসুমে তাদের সূচি থেকে একটি বড় টুর্নামেন্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে পাঁচটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা থাকলেও, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় ‘সুপার কাপ’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার কথায়, “শেষ মুহূর্তে কোনো পৃষ্ঠপোষক পাওয়া না যাওয়ায় এবার সুপার কাপ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। একটি টেলিকম কোম্পানি প্রাথমিকভাবে টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার জন্য রাজি হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন আগে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ফলে, এই টুর্নামেন্টটি পরবর্তী মৌসুম পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে।”
বাফুফে এই মৌসুমে মোট পাঁচটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই মাঠে গড়িয়েছে।
| টুর্নামেন্টের নাম | অবস্থা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ কাপ | সম্পন্ন | সফলভাবে শেষ হয়েছে |
| ফেডারেশন কাপ | সম্পন্ন | চূড়ান্ত পর্যায়ে হয়েছে |
| বাংলাদেশ ফুটবল লিগ | সম্পন্ন | মৌসুম শেষ হয়েছে |
| সুপার কাপ | বাতিল | স্পনসরের অভাবে স্থগিত |
| এক অন্যান্য স্থানীয় টুর্নামেন্ট | নির্ধারিত | শীঘ্রই মাঠে গড়ানো হবে |
সুপার কাপটি ছিল বাংলাদেশ ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে একটি। এর আয়োজন ২০০৯, ২০১১ এবং ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। টুর্নামেন্টটি সাধারণত লিগের মধ্যবর্তী সময় বা মৌসুমের ফাইনালে আয়োজন করা হতো এবং দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলো অংশগ্রহণ করতো। প্রতি বারই এটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক প্রধান আকর্ষণ হিসেবে কাজ করত।
ইমরুল হাসান আরও বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি নতুন পৃষ্ঠপোষক খুঁজে বের করার, কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এবার তা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, পরবর্তী মৌসুমে সুপার কাপকে পুনরায় মাঠে আনা সম্ভব হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পনসরবিহীন টুর্নামেন্টের ফলে দেশের ঘরোয়া ফুটবল আরও ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে এমন সময় যখন বাংলাদেশ জাতীয় দল মাঠে ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ঘরোয়া ম্যাচের প্রয়োজন।
ফুটবলভক্তরা এখন পরবর্তী মৌসুমের জন্য সুপার কাপের প্রত্যাশায় আছে। স্পনসর সাপোর্ট ছাড়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের সমস্যা শুধুমাত্র অর্থের নয়, বরং খেলোয়াড়দের মানসিক ও প্রস্তুতি সাপোর্টকেও প্রভাবিত করে।
