সুজনের জীবনপাঠ: মেন্টরের প্রভাব

একসময় সুজনের কাছে বাবাই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ মেন্টর। বাবার জ্ঞান, সততা ও দয়াশীলতা তাকে মুগ্ধ করত। মাধ্যমিক স্তরে যখন স্কুলের শিক্ষকরা পড়াতেন, তখনও বাবার পরামর্শই তার সবচেয়ে মূল্যবান মনে হতো। তবে কলেজে প্রবীণ প্রফেসরের সাক্ষাৎ তার দৃষ্টি উন্মুক্ত করে দেয়। তিনি দেখলেন, একজন মানুষ কতো গভীরভাবে সব বিষয় জানে। তখনই অনুভব করল, মেধা থাকলেই যথেষ্ট নয়; মেন্টরের সহায়তা ছাড়া জীবনের পথ কখনও স্পষ্ট হয় না।

সুজনের ভাষ্য, “প্রফেসরদের কথা, দৃষ্টিভঙ্গি, ধৈর্য—সবই আমাকে নতুনভাবে চিনতে শিখিয়েছে।” কলেজ জীবনের শিক্ষকরা সুজনকে শিখিয়েছিলেন কৌশল, বিশ্লেষণ, বই পড়ার নেশা এবং যৌক্তিক আলোচনার মান। এর ফলে সুজন কেবল জ্ঞান অর্জন করেনি, বরং চিন্তাশীল, ধৈর্যশীল ও যুক্তিসঙ্গত হয়ে ওঠে।

কর্মজীবনে এসে সে বুঝল, নতুন মেন্টরের প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তব জীবনের মেন্টর—বস রবিণ—ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি সুজনকে মমতা দেখিয়ে নয়, কঠোর অনুশীলন, বাস্তব দায়িত্ব ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলেন। যেমন কামার লোহা গলিয়ে পেরেক বানায়, তেমনি সুজনকে চাপের মধ্যে রেখেও আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ করে তোলেন।

অফিসে অনেক সহকর্মী অনর্থক রাজনীতি, অহংকার ও মোহগ্রস্ততায় ব্যস্ত থাকলেও সুজন নিজের কাজকে দায়বদ্ধতা ও উদ্যমের সঙ্গে সম্পন্ন করে। জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ, নতুন আইডিয়া বাস্তবায়ন এবং সংস্থার কল্যাণে মনোযোগী হওয়ায় ধীরে ধীরে তার দক্ষতা ও সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। বসের কঠোর মেন্টরিংয়ের কারণে সুজন একসময় দায়িত্বশীল, সমঝদার ও দক্ষ ব্যবস্থাপক হয়ে ওঠে।

সুজনের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়—মেন্টর শুধু পিতৃত্ব বা বন্ধুত্ব নয়। তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি কঠোরতায়, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় তোমাকে গড়ে তুলেন, জীবনের বাস্তবতাকে মোকাবিলা করতে শেখান। মেন্টরের কাছে সহজে পৌঁছানো সম্ভব নয়, ধৈর্য, বিনম্রতা এবং জিজ্ঞাসা-উৎসাহ থাকলেই শেখার পথ উন্মুক্ত হয়।

সর্বশেষে সুজন বুঝতে পারে, মেন্টর হলো সেই মানুষ, যিনি তোমার অজ্ঞতা, ত্রুটি এবং সম্ভাবনা সবই দেখেন, তোমাকে চ্যালেঞ্জ দেন, এবং নিজেকে সর্বোচ্চ রূপে গড়ে তোলার সুযোগ দেন। জীবনে মেন্টর পাওয়া যেমন দুর্লভ, তেমনি তার মূল্য অপরিসীম।

লেখক: ক্লিন এন্ড গ্রিন ফাউন্ডেশন ও গরিব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা।