চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের গোয়ালিনী গেট এলাকায় শুক্রবার রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় ১০টি গরু এবং ১৩টি ছাগল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের বিস্তার হয়ে পাশের ৫টি দোকানও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
পুড়ে যাওয়া খামারটির নাম ‘মা-বাবার দোয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’। খামারের মালিক হাবিবুর রহমান জানান, খামারে মোট ১১টি গরু এবং ১৩টি ছাগল ছিল। আগুনের সময় একটি গরু বের করা সম্ভব হলেও বাকি সব গবাদিপশু অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, “পাশের মুদিদোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের খবর দেওয়ার পরও ফায়ার সার্ভিস পৌনে দুই ঘণ্টা পরে পৌঁছায়।”
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে তারা খবর পেয়েছেন। “ঘটনাস্থল আমাদের স্টেশন থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। স্থানীয়রা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাতের কথা বললেও ঘটনাস্থলে কোনো সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি,” তিনি উল্লেখ করেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ
| ক্ষতির ধরন | সংখ্যা/পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গরু | ১০ | ১১টির মধ্যে ১ বাঁচল |
| ছাগল | ১৩ | সব পুড়ে গেছে |
| দোকান | ৫ | সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি |
| আগুনের সম্ভাব্য উৎস | বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট | গ্যাস সিলিন্ডারের উপস্থিতি নেই |
স্থানীয়রা জানান, আগুনের সময় তারা দৌড়ে এসে সাহায্য করেছেন। স্থানীয়দের প্রচেষ্টা এবং ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছানোর পর কার্যকর ব্যবস্থা অবলম্বন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
হাবিবুর রহমান বলেন, “এ ধরনের ক্ষতি আমাদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা। আশা করি সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিটকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তদন্ত শেষে সঠিক কারণ ঘোষণা করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় পশুপালক ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আগুনের দ্রুত বিস্তার এবং পশু-সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এবং কার্যকর ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।
