কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী: অমর সৃষ্টির আলোয় বাংলা উদ্ভাসিত

২৫ বৈশাখ উপলক্ষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে। বাংলা সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চিত্রকলা ও দর্শনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে স্মরণ করে নানা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জোড়াসাঁকো, শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরসহ তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ (১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর চতুর্দশ সন্তান। ১৯১৩ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি–এর জন্য নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন, যা বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করে। তাঁর রচিত গান ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধিক শাখায় সৃজনশীল অবদান রেখেছেন। তিনি কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সংগীতস্রষ্টা, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক এবং চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনাসম্ভারের মধ্যে রয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধগ্রন্থ, অসংখ্য ছোটগল্প এবং দুই হাজারেরও বেশি গান। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত মানবজীবনের বিভিন্ন অনুভূতি, সামাজিক চিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আধুনিক চিন্তা ও প্রকাশভঙ্গির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর রচনায় প্রকৃতি, সমাজ ও মানবচেতনার গভীর বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েও তাঁর গান অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি

রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে রাজধানী ঢাকা এবং রবীন্দ্রস্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। নিচে প্রধান কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—

স্থান/সংস্থাসময়কালকর্মসূচি
শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি৮–১০ মেসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (ঢাকা)৮–১১ মেরবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাট্য প্রদর্শনী, আলোচনা
রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা (মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর)৮–৯ মেজাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব (প্রতিদিন দুই অধিবেশন)
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৮–১১ মেরচনা, সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা
বাংলা একাডেমি১১ মে (২৮ বৈশাখ)রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬ প্রদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছায়ানট এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে দিবসটি উদ্‌যাপন করছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী কেবল স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদানের মূল্যায়নের একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বিশ্বজুড়ে বাংলা সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে।