বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বগুড়ার শাহাজানপুর ও বগুড়া সদর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শাহাজানপুর উপজেলার ট্রাকচালক মহিদুল ইসলাম (২৬), তাঁর সহকারী সাকিব হোসেন (২০) এবং বগুড়া সদর উপজেলার গোলাম মোস্তফা (৪৬)।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ডিক্রির চর (গোপচর) এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শফিউল্লাহ (৩০) বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তিনি মৃত মোহাম্মদ পান্না উল্লাহর ছেলে। ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার চকনুর গ্রামের তালুকদার ফিলিং স্টেশন থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ৪০০টি গ্যাস সিলিন্ডার একটি ট্রাকে বোঝাই করা হয়। এরপর ট্রাকটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
পথে রৌহা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল ট্রাকটির গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ট্রাকের চালক আসিফসহ গাড়িতে থাকা অন্যদের ধারালো ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। আতঙ্কের মধ্যে থাকা চালক ও তাঁর সহকারীরা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। পরে দলের দুজন সদস্য চালকের পাশের আসনে বসে ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ভোর ৪টার দিকে ট্রাকটি ষোলমাইল ফায়ার সার্ভিস এলাকার একটি কবরস্থানের পাশের নির্জন সড়কে থামানো হয়। সেখানে দুটি মিনি ট্রাকে ৪০০টি গ্যাস সিলিন্ডার তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে চালক ও তাঁর সহকারীর কাছে থাকা তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৮৬ হাজার টাকা লুট করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ৪৮টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার হওয়ায় বাকি ৩৫২টি সিলিন্ডারের সন্ধান পাওয়া এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে লুটের ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়, বাকি সিলিন্ডারগুলোর অবস্থান এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে এসব বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আদালতে।









