সিরাজগঞ্জের জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কোনো যাত্রী আহত হননি, তবে ট্রেনে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে জানানো হয়েছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু হান্নান বলেন, “চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো যাত্রী বা কর্মী আহত হননি। সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা দ্রুত ঠিক করা সম্ভব।”
কামারখন্দ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বলেন, “আমরা আজই এই ঘটনার খবর পেয়েছি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এখনও সম্ভব হয়নি। যেহেতু এটি রেলওয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক ঘটনা, তাই বিস্তারিত তথ্য সরাসরি জিআরপি থানা দিতে পারবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি কোনো সন্ত্রাসী বা দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।
চিত্রা এক্সপ্রেস হলো ঢাকার সঙ্গে খুলনার গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীবাহী ট্রেন। চলতি বছরের রেলওয়ে নিরাপত্তা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চিত্রা এক্সপ্রেস দিনে দুইবার ঢাকা-খুলনা রুটে যাত্রা পরিচালনা করে।
নিচের টেবিলে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো:
| তথ্যবিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| রুট | ঢাকা → খুলনা |
| যাত্রা সময় | প্রায় ৬–৭ ঘণ্টা |
| যাত্রীর গড় সংখ্যা | ৪০০–৫০০ জন প্রতি যাত্রায় |
| ইঞ্জিন ধরণ | ডিজেল-ইলেকট্রিক |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | জিআরপি ও রেলওয়ে পুলিশ তৎপর |
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চলন্ত ট্রেনে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা আগ্নেয়াস্ত্র নিক্ষেপ জনহিতের জন্য গুরুতর ঝুঁকি। এই ধরনের ঘটনা রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ঘটনার পর বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃতি, দায়ী ব্যক্তিরা এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করা হবে। এই ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা প্রতিরোধ করা রেলওয়ের প্রধান অগ্রাধিকার।
পরবর্তীতে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, যেখানে হামলার সময়কাল, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পদক্ষেপের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
