বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমানের সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ এবং সার্ভার উপাদান উৎপাদনে সিঙ্গাপুরের অবদান আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সহনশীলতার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি লাভবান হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এআই পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সিঙ্গাপুরের জিডিপি গত বছরের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে। গত মঙ্গলবার দেশটির সরকার চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস পুনর্মূল্যায়ন করেছে।
সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী:
| সূচক | পূর্ববর্তী পূর্বাভাস (২০২৬) | নতুন পূর্বাভাস (২০২৬) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি | ১.০–৩.০% | ২.০–৪.০% | এআই পণ্যের চাহিদা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সহনশীলতার প্রভাব |
| ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি | ৪.৮% | ৫.০% | পূর্বাভাস ছাড়িয়ে সফলতা |
| গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত | ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, সার্ভার উপাদান | – | এআই পরিচালিত ডেটা সেন্টারের জন্য অপরিহার্য |
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের প্রবৃদ্ধি ৫.০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্বাভাস ৪.৮ শতাংশকে ছাড়িয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, চতুর্থ প্রান্তিকের এই শক্তিশালী প্রবণতা চলতি বছরও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাণিজ্য সহনশীল ছিল, সম্ভবত প্রাথমিকভাবে ঘোষিত শুল্কহার বাস্তবে কম হওয়ায়।
এছাড়া, মন্ত্রণালয় জানায়, দেশগুলো শুল্কের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাণিজ্য পুনর্বিন্যাস করেছে এবং এআই-সংশ্লিষ্ট রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখায় বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে সিঙ্গাপুর এআই সফটওয়্যার ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে, যা শহর দেশটিকে আঞ্চলিক আর্থিক ও ডিজিটাল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানের সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি এবং অনুকূল বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্ব প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করবে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কিছু প্রধান অর্থনীতির বৃদ্ধির গতি ২০২৫ সালের তুলনায় কিছুটা ধীর হতে পারে, যা আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে হতে পারে। সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেশটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এভাবেই বিশ্বব্যাপী এআই পণ্যের চাহিদা সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে নতুন প্রেরণা যোগ করছে, এবং দেশটি এ খাতে তার নেতৃত্ব ধরে রাখার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
