সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত দাবি নিয়ে বীমাপ্রাপ্তিদের জন্য কোম্পানির বিরুদ্ধে আপিল করা একটি চরম চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সম্প্রতি সংসদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য বীমা বিরোধের প্রায় ৯৬% ক্ষেত্রে বীমা প্রতিষ্ঠানই বিজয়ী হয়, যা বিরোধ সমাধানে এক বড় বৈষম্য নির্দেশ করে।
২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, স্টেট সচিব অ্যালভিন ট্যান সংসদে এই তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি মনিটরি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (MAS) এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, বীমা কোম্পানি ও বীমাপ্রাপ্তির মধ্যে দাবি সমাধানের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা গভীর এবং প্রাসঙ্গিক। এই তথ্য তিনি পশ্চিম কোস্ট–জুরং ওয়েস্ট জি.আর.সি’র সাংসদ ড. হামিদ রাজারের প্রশ্নের উত্তরে উপস্থাপন করেন।
ট্যান আরও উল্লেখ করেন, MAS এর পূর্ববর্তী রিপোর্ট নভেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত, ফিনান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রি ডিসপিউট রেজোলিউশন সেন্টার (FIDReC) প্রতি বছর গড়ে ২৪৬টি মধ্যস্থতা ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫টি কেস ছিল স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত।
স্বাধীন পর্যালোচকরা তিন বছরের মধ্যে মাত্র ৪% স্বাস্থ্য বীমা বিরোধে বীমাপ্রাপ্তিদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানি তাদের অবস্থান রক্ষা করতে সক্ষম হয়, ফলে বীমাপ্রাপ্তিদের পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিপূরণের সুযোগ খুবই সীমিত থাকে।
নীচের টেবিলে ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রধান তথ্যগুলি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বছর | মোট FIDReC কেস | স্বাস্থ্য বীমা কেস | বীমাপ্রাপ্তির বিজয় | সফলতার হার (%) |
|---|---|---|---|---|
| ২০২২ | ২৫০ | ৯৮ | ৪ | ৪.১ |
| ২০২৩ | ২৪০ | ৯২ | ৪ | ৪.৩ |
| ২০২৪ | ২৪৮ | ৯৫ | ৪ | ৪.২ |
| গড় | ২৪৬ | ৯৫ | ৪ | ৪.২ |
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বীমার শর্তাবলী আরও স্বচ্ছ করলে এবং কোম্পানি পক্ষ থেকে প্রোএক্টিভ নির্দেশনা প্রদান করলে বিরোধের সংখ্যা কমানো সম্ভব এবং বীমাপ্রাপ্তির দাবির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
যদিও দাবি দাতাদের জন্য সফলতার হার খুবই কম, তবুও FIDReC মধ্যস্থতা ও স্বাধীন মূল্যায়ন সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে, যাতে বীমাপ্রাপ্তিরা ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে প্রকাশিত তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্য বীমা দাবি জেতা এখনও একটি অত্যন্ত কঠিন প্রক্রিয়া।
