সিঙ্গাপুরে ৩ মে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং-এর নেতৃত্বের জন্য এক বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে, বিশেষ করে মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাব ও বিশ্ববাণিজ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গেল বছর প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ-এর ছেলে লি সিয়েন লুং পদত্যাগের পর ওং ক্ষমতায় আসেন। তাঁর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)-এর জন্য এটি হবে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী লড়াই। মঙ্গলবার পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, ফলে ভোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
পিএপি দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে। ১৯৫৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই দলটি আবারও জয়ের প্রত্যাশা করছে। তবে এবার বিরোধী দলগুলোর উত্থান এবং তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ব্যবস্থার টানাপোড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার প্রভাব সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। এই বাস্তবতায় সোমবার সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা ১-৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী ওং সতর্ক করে বলেছেন, “নিয়মভিত্তিক বিশ্বায়ন ও মুক্ত বাণিজ্যের যুগ শেষ।” তিনি দেশের জন্য একটি দৃঢ় জনমত চান, যেন কঠিন সময় পেরিয়ে সঠিক কৌশলে এগিয়ে যাওয়া যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারকার নির্বাচন হতে পারে পিএপির জন্য সবচেয়ে কঠিন লড়াই। বিশেষজ্ঞ মুস্তাফা ইজ্জউদ্দিন বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে।”
২০২০ সালের নির্বাচনে বিরোধী ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি) ঐতিহাসিকভাবে ৯৩টি আসনের মধ্যে ১০টি জিতে নেয়, যা পূর্বের তুলনায় অনেক বড় অর্জন। এবারও দলটি আরও ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতিতে ভারসাম্য তৈরির দাবিতে তরুণ প্রজন্মের জোরালো সাড়া এবং অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মনোনয়ন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বাঁক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
