মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পশ্চিম ভাকুম গ্রাম থেকে রেহেনা আক্তার (৩৫) নামের ওই নারীর নিথর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং মরদেহের অবস্থান নিয়ে এলাকায় নানা রহস্য ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মরদেহ উদ্ধার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে গ্রামের এক নারী পুকুরপাড়ের পাশের একটি ঝোপের মধ্যে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সিংগাইর থানায় সংবাদ দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নিহত রেহেনা আক্তার দীর্ঘ সময় প্রবাসে কর্মরত ছিলেন এবং গত বছর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বৈবাহিক জীবনে বিচ্ছেদের পর তিনি তার একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পৈত্রিক গ্রাম পশ্চিম ভাকুমেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেহেনা আক্তার শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং কারো সাথে তার কোনো দৃশ্যমান বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। এই শান্ত ও নির্ঝঞ্ঝাট জীবনযাত্রার মধ্যেও এমন মৃত্যু গ্রামবাসীর কাছে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিহতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও তথ্যাদি
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | রেহেনা আক্তার |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| পিতার নাম | (স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এলাকা নিবাসী) |
| গ্রাম ও ইউনিয়ন | পশ্চিম ভাকুম, জয়মন্টপ ইউনিয়ন |
| উপজেলা ও জেলা | সিংগাইর, মানিকগঞ্জ |
| পেশাগত পরিচয় | সাবেক প্রবাসী (এক বছর আগে দেশে ফেরেন) |
| পারিবারিক অবস্থা | ডিভোর্সী (এক সন্তানের জননী) |
| মরদেহ উদ্ধারের স্থান | পুকুরপাড় সংলগ্ন ঝোপঝাড় |
তদন্ত ও প্রশাসনের ভূমিকা
মরদেহ উদ্ধারের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে রাখেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুলিশ সম্ভাব্য সকল দিক মাথায় রেখে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ওই নারীর মোবাইল ফোনের কল লিস্ট এবং সাম্প্রতিক গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পশ্চিম ভাকুম গ্রামসহ পুরো জয়মন্টপ ইউনিয়নে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রবাস থেকে ফিরে এসে নিজ গ্রামে এভাবে মৃত্যুবরণ করার বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। অনেকে একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করলেও পুলিশ ময়নাতদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দ্রুত রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো পূর্বশত্রুতার জের নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল, তা উদঘাটনে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
