বাংলা কথাসাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম লেখক শংকর—যাঁর লেখনী বহু দশক ধরে পাঠকদের মুগ্ধ করে আসছে। তাঁর প্রকৃত নাম মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, কিন্তু সাহিত্যপ্রেমীরা তাঁকে শংকর নামেই বেশি চেনেন ও ভালোবাসেন।
তাঁর সাহিত্যকে প্রথম বিশেষভাবে তুলে ধরেন সত্যজিৎ রায়। শংকরের ‘সীমাবদ্ধ’ ও ‘জনঅরণ্য’ অবলম্বনে রচিত হয় সত্যজিৎ রায়ের দুই বিখ্যাত চলচ্চিত্র। এছাড়া তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘চৌরঙ্গী’ও সিনেমায় জীবন পেয়েছিল, যেখানে উত্তম কুমারের অভিনয় ছিল অনন্য। সেই সময় সাহিত্য ও চলচ্চিত্র এক অনন্য বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল।
১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোরের বনগ্রামে তাঁর জন্ম—যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার অংশ। আইনজীবী বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায়ের চাকরির কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেই তাঁদের পরিবার হাওড়ায় আসে। সেখানেই তাঁর শৈশব এবং সাহিত্যপ্রীতির সূচনা হয়।
জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না—ফেরিওয়ালা থেকে টাইপরাইটার ক্লিনার, প্রাইভেট টিউটর, শিক্ষক, এমনকি জুট ব্রোকারের জুনিয়র কেরানির কাজও করেছেন তিনি। জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা একসময় তাঁর সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে। এক ইংরেজ বন্ধুর উৎসাহেই তিনি প্রথম কলম ধরেন।
প্রথম উপন্যাস ‘বোধোদয়’ প্রকাশের পরই তিনি পান মূল্যবান স্বীকৃতি। লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো তিন শব্দ—
“Bright, Bold, Beporoa.”
তাঁর সাহিত্যজীবনের পরিচয় হয়ে ওঠে।
নব্বইয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছেন স্বামী বিবেকানন্দকে কেন্দ্র করে। স্বামীজীর জীবন, দর্শন ও অজানা অধ্যায় নিয়ে তাঁর লেখা ‘আমি বিবেকানন্দ বলছি’ আজও পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়—যেখানে বিবেকানন্দের নতুন এক দিক উন্মোচিত হয়েছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার তালিকায় রয়েছে—
কত অজানারে, চরণ ছুঁয়ে যাই, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ রহস্যামৃত, আশা আকাঙ্ক্ষা, তীরন্দাজ, পটভূমি, কামনা বাসনা, অনেক দূর, সীমন্ত সংবাদ, চৌরঙ্গী, একদিন হঠাৎ, যেখানে যেমন, বাংলার মেয়ে, ঘরের মধ্যে ঘর, মানবসাগর তীরে, সোনার সংসার, সুবর্ণ সুযোগ, সীমাবদ্ধ, স্থানীয় সংবাদ প্রভৃতি।
এই বিশেষ দিনে সাহিত্যিক শংকরের প্রতি জানানো হলো শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। তাঁর সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সৃজনশীলতা বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করুক।
জিলাইভ২৪/এসএস
