সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দায় জিয়াউল সম্পর্কে যা জানা গেল

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনের ঘটনাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূইয়া। তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য। এছাড়া গত দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে সেনাবাহিনীতে ক্ষমতাচ্যুত ও অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেছেন তিনি।

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম জানান, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে কর্নেল জিয়াউলের আচরণ অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। এডিজি পদে থাকাকালীন সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, “র‌্যাবের ডিজি বেনজীরের আগমনের পর জিয়া এডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট (এএসইউ) থেকে জানা যায়, কর্নেল জিয়া পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি করছেন। তিনি নিজের আবাসিক টাওয়ারে গার্ড রাখতেন, বাসায় অস্ত্র ও সিসিটিভি বসিয়েছিলেন। বিষয়টি সামলাতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ অব্যাহত থাকে।”

ইকবাল করিম আরও উল্লেখ করেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলের সঙ্গে আলাপের পর বোঝা যায় যে, জিয়াকে শৃঙ্খলে আনা সম্ভব নয়। অবশেষে কর্নেল জিয়াকে রেললাইনের পশ্চিম পাশে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করা হয়।

তিনি বলছেন, ১৯৯৬-২০০১ সালের ভুল পুনরাবৃত্তি এড়াতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন। দেশের একমাত্র ক্ষমতাসীন শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগকে দৃঢ় করার জন্য তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন এবং সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করেন। এছাড়া সেনাবাহিনীতে অনুগত ও যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে কাঙ্খিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

নিরাপত্তা ও সেনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মধ্যে ছিলেন মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকীকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ। তিনি ধীরে ধীরে ডিজিএফআই, এনএসআই, এএফডি, বিজিবি, আনসার, এনটিএমসি, ডিজিডিপি ও র‌্যাবের ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এই কারণে ওই সংস্থাগুলোতে গুম, খুন, অপহরণ, জমি দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনা বৃদ্ধি পায়।

গত ১৫ বছরে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও খুনের অভিযোগে মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৪ জানুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম এই মামলায় সাক্ষ্য দেবেন।

গুম ও খুন সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে

বিষয়বিবরণ
অভিযুক্তমে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসান
পদে থাকা কালর‌্যাব এডিজি ও অন্যান্য দায়িত্বশীল পদ
অভিযোগবিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, অপহরণ, জমি দখল, চাঁদাবাজি
নিরাপত্তা পদক্ষেপনিজের আবাসিক টাওয়ারে গার্ড, সিসিটিভি, অস্ত্র সংরক্ষণ
‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণার স্থানরেললাইনের পশ্চিম পাশে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপযুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি কার্যকর, অনুগত কর্মকর্তা নিয়োগ
গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগমেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকী – নিরাপত্তা উপদেষ্টা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুনানিআগামী ১৪ জানুয়ারি