সাতক্ষীরায় গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার ফিংড়ি এলাকার একটি বাগানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল।
এর আগে ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ সিদ্ধান্তে ৫ মে থেকে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সেই সময়সূচি অনুযায়ী আজ থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়া ও বাজারজাতকরণ শুরু হলো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাতক্ষীরার আমের গুণগত মান ও স্বাদ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় অনুসরণ করে আম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে অপরিপক্ব আম বাজারজাত হওয়া রোধ করা যাবে এবং জেলার আমের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকবে।
আম সংগ্রহের সময়সূচি ও জাতভিত্তিক তালিকা
| আমের জাত | সংগ্রহ শুরুর তারিখ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গোপালভোগ | ৫ মে থেকে | স্থানীয় প্রাথমিক জাত |
| গোবিন্দভোগ | ৫ মে থেকে | স্থানীয় প্রাথমিক জাত |
| বোম্বাই | ৫ মে থেকে | স্থানীয় প্রাথমিক জাত |
| গোলাপখাস | ৫ মে থেকে | স্থানীয় প্রাথমিক জাত |
| বৈশাখী | ৫ মে থেকে | স্থানীয় প্রাথমিক জাত |
| হিমসাগর | ১৫ মে থেকে | মধ্যম মৌসুমের জাত |
| ল্যাংড়া | ২৭ মে থেকে | প্রধান বাণিজ্যিক জাত |
| আম্রপালি ও মল্লিকা | ৫ জুন থেকে | শেষ পর্যায়ের জাত |
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, চাষিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, সঠিক সময়ে আম সংগ্রহ করলে ফলের স্বাদ, রং ও সংরক্ষণ ক্ষমতা ভালো থাকে এবং বাজারমূল্যও স্থিতিশীল থাকে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক যুক্ত রয়েছেন। এবারের মৌসুমে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ মেট্রিক টন আম। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
আমচাষি আবু সাঈদ জানান, বর্তমানে জেলার প্রধান আম বাজার সুলতানপুর বড়বাজার। তিনি বাজার ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সেখানে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যেন গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানান।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, সাতক্ষীরার আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষভাবে পরিচিত এর আগাম পাকা, স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করা হলে জেলার আমের সুনাম বজায় থাকবে, অন্যথায় মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি চাষি ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার। আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ, সাংবাদিক মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।