টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে পাকিস্তানের বিপক্ষে এককভাবে ইংল্যান্ডকে জয়ী করে ইতিহাস গড়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। পাল্লেকেলেতে মঙ্গলবারের ম্যাচে ৫১ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলতে গিয়ে ব্রুক ভেঙে দিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের একটি দীর্ঘদিনের রেকর্ড।
এই ইনিংসটি কেবল দলকে জিতিয়ে দেনি, বরং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন কিছু রেকর্ডও স্থাপন করেছে। এর আগে কোনো অধিনায়কের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের ৯৮ রান। ব্রুকের এই সেঞ্চুরি বিশ্বকাপে কোনো অধিনায়কের ইতিহাসে প্রথম তিন অঙ্কের ইনিংস হিসেবে নথিভুক্ত হলো।
পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি হিসেবে ব্রুকের ইনিংস বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে পর্যন্ত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল সাকিব আল হাসানের। ২০১২ সালে ঠিক একই স্থানে—পাল্লেকেলেতে—সাকিব ৫৪ বলে ৮৪ রান করেছিলেন।
ব্রুক মাত্র ৫০ বল খেলে তিন অঙ্কের মাইলফলক ছুঁলেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ দ্রুততম সেঞ্চুরি করেননি ক্রিস গেইল, ২০১৬ সালের আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে। এছাড়া ইতিহাসে আরও একবার, ২০০৭ সালে ইউনিভার্স বসও ৫০ বলেই সেঞ্চুরি করেছিলেন।
তিন সংস্করণে (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি) তিন অঙ্কের ইনিংস করার কৃতিত্বেও ব্রুকের নাম যুক্ত হলো। এই কৃতিত্বের আগে এটি শুধুমাত্র জস বাটলার ও ডেভিড মালানের নামে ছিল। বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার ক্ষেত্রে ব্রুক ইংল্যান্ডের তৃতীয় ব্যাটার। তার আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস।
নিচের টেবিলে এই গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| রেকর্ড | ক্রিকেটার | রান | বল | বছর | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| দ্রুততম অধিনায়ক সেঞ্চুরি (২য়) | হ্যারি ব্রুক | ১০০ | ৫০ | ২০২৬ | পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি |
| আগের দ্রুততম অধিনায়ক সেঞ্চুরি | ক্রিস গেইল | ৯৮ | – | – | বিশ্বকাপে সর্বাধিক ইনিংস ৯৮ রান |
| পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস | সাকিব আল হাসান | ৮৪ | ৫৪ | ২০১২ | পাল্লেকেলেতে একই মাঠে |
| তিন সংস্করণে তিন অঙ্ক | হ্যারি ব্রুক | – | – | ২০২৬ | জস বাটলার ও ডেভিড মালানের সঙ্গে যুক্ত |
ব্রুকের এই সেঞ্চুরি কেবল ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, ইংল্যান্ডের দলগত মর্যাদা ও বিশ্বকাপে নেতৃত্বের ক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। দল ও সমর্থকদের জন্য এটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে ইতিহাসে ধরা পড়বে।
