সরকার ভেঙেও থামছে না জেন-জি আন্দোলন

মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা জেনারেশনজেড (Gen-Z) বিক্ষোভ সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবুও আন্দোলনকারীরা শান্ত হননি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তারা নতুন করে রাস্তায় নামলে পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট তাঁর মন্ত্রিসভা বাতিল করতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও শত শত তরুণ প্রতিবাদকারী রাজধানীর রাজপথে ফিরে আসেন। বরাবরের মতোই মাদাগাস্কার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

 

জেনারেশনজেড বিক্ষোভের কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে মাদাগাস্কার প্রায় অচল। আন্দোলনকারীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পরিস্থিতির দায় স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা সোমবার তাঁর সরকারের সবাইকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেন।

তবে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে জমায়েতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলনকারীদের ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত বার্তায় প্রেসিডেন্টের ভাষণে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর পর তাঁকে ক্ষমা চাইতে এবং ঘটনার দায়ভার নিতে দাবি জানানো হয়।

 

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে কমপক্ষে ২২ জন নিহত এবং ১০০ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করেছে।

তবে মাদাগাস্কারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, বিক্ষোভকে ঘিরে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং দায়িত্বশীলদের ধরনের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার আন্তানানারিভো আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এএফপি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সড়ক অবরোধের সময় জড়ো হওয়া একটি ছোট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনাটি দ্রুত শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভ প্রথমে আন্তানানারিভোতে শুরু হলেও এটি দেশের আটটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতা লুটপাটের কারণে আন্তানানারিভোতে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বারংবার রাবার বুলেট এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে।

 

বিদ্যুৎ পানি সংকটের বিরুদ্ধেজেনজিদ্বারা পরিচালিত আন্দোলনটি প্রাণহানি সহিংসতায় মোড় নেয়। বিভিন্ন বয়স শ্রেণির হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া তৃতীয় দফার এই বিক্ষোভ থেকে দেশ সংস্কারের দাবি উঠেছে।