খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৫৫ পিএম

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, রায়পুরা এলাকায় সন্ত্রাস দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে যৌথ অভিযান চালানো হবে। বুধবার সকালে নরসিংদী জেলা কারাগার পরিদর্শনের সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।
উপদেষ্টা জানান, রায়পুরা বর্তমানে সন্ত্রাসীদের একটি প্রধান আড্ডা হয়ে উঠেছে। এলাকায় অস্ত্রসহ সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারীর উপস্থিতি রয়েছে। তাই সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, “এখন টেঁটা গ্রুপ আপডেট হয়ে হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলখানায় সংঘটিত আগুনের ঘটনায় কয়েদিদের পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। জেলখানায় আগুনের সময় অনেক কয়েদি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে, আবার অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “কয়েদিদের মধ্যে অধিকাংশই মাদক মামলার আসামি। মাদক নির্মূলের জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নেব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ কারাগার গড়ে তোলা হবে।”
এই সময় নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নরসিংদী সফরে সকালেই পুলিশ লাইনসের ক্যান্টিন, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা কারাগার পরিদর্শন করে কয়েদিদের অবস্থার সঙ্গে পরিচিত হন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রায়পুরার যৌথ অভিযান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মাদক কারবার দমন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অস্ত্র উদ্ধার–এর উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযান এলাকা | রায়পুরা, নরসিংদী জেলা |
| যৌথ বাহিনী | সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী |
| লক্ষ্য | সন্ত্রাস দমন, মাদক নির্মূল, অস্ত্র উদ্ধার |
| উল্লেখযোগ্য তথ্য | – টেঁটা গ্রুপ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে – ১৯ জুলাই জেলখানায় আগুনে কয়েদি পালিয়েছে – অধিকাংশ কয়েদি মাদক মামলার আসামি |
| বিশেষ ব্যবস্থা | মাদক মামলার জন্য বিশেষ কারাগার নির্মাণ |
উক্ত যৌথ অভিযানকে ঘিরে প্রশাসন ইতিমধ্যেই পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি শুরু করেছে। রায়পুরার সাধারণ মানুষও আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রভাব ফেলবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে।
মন্তব্য