সকালে-রাতে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের শুরু থেকেই ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভূত হয়েছে। বিশেষত ভোর ও রাতের সময় দুটি আলাদা ভূমিকম্পে রাজধানীসহ একাধিক জেলা কেঁপে উঠেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সর্তকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে সাতক্ষীরার কলারোয়া কেন্দ্রবিন্দু করে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এ ভূমিকম্পের মাত্রা ৪.১ রিখটার স্কেলে নির্ধারণ করেছে, যা ‘মৃদু’ শ্রেণির ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কলারোয়া এলাকায় এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।

রাত ৯টা ৪০ মিনিটে দেশ পুনরায় ভূমিকম্পে কাঁপে। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। রাতে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও আশপাশের জেলার বাসিন্দারা ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। এ ভূমিকম্পের মাত্রা এবং কেন্দ্রস্থল সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্প সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

সময়উৎপত্তিস্থলকেন্দ্রস্থল/প্রবণ এলাকামাত্রা (রিখটার স্কেল)গভীরতা (কিমি)প্রভাবিত জেলা/এলাকা
৩ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৪:৩৬সাতক্ষীরার কলারোয়াকলারোয়া, সাতক্ষীরা৪.১১৫০সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, আশপাশের এলাকা
৩ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯:৪০মিয়ানমারঅজানাঅজানাঅজানাঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, অন্যান্য জেলা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কারণে মাঝে মাঝে এমন মৃদু কেঁপানি স্বাভাবিক। তবে নাগরিকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি রাখতে প্রস্তুত।

মোটের ওপর, মঙ্গলবারের দুটি ভূমিকম্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে, তবে দ্রুতগতিতে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি। ভূমিকম্পের উৎপত্তি ও প্রভাব সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য প্রাপ্তি মাত্রা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।