পরীক্ষার আগমুহূর্তে প্রবেশপত্র সংকট, মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার একেবারে আগের রাতে প্রবেশপত্র না পাওয়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর পরীক্ষার ঠিক আগে অনিশ্চয়তায় পড়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গৃধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও প্রবেশপত্র হাতে পাননি। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার আগের দিন সকাল থেকেই তারা একাধিকবার বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট সমাধান মেলেনি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, প্রবেশপত্র প্রদানে দেরির বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন যে তাদের পরীক্ষা অংশগ্রহণই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মানসিক চাপ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা সোমবার (পরীক্ষার আগের দিন) রাত সাড়ে আটটার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। মুহূর্তেই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত চিত্র

বিষয়তথ্য
এলাকাপলাশবাড়ী, গাইবান্ধা
বিদ্যালয়গৃধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়
পরীক্ষার্থীপ্রায় ৪০ জন
সড়কঢাকা–রংপুর মহাসড়ক
অবরোধের সময়রাত সাড়ে ৮টা থেকে
মূল কারণপ্রবেশপত্র না পাওয়া
সময়কালপ্রায় ১ ঘণ্টা
সমাধানইউএনও’র হস্তক্ষেপ

অবরোধের কারণে জরুরি সেবার যানসহ শত শত গাড়ি আটকে পড়ে। রাতের বেলায় এই যানজটের ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত প্রবেশপত্র সরবরাহের আশ্বাস দেন এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাদের দাবি, বারবার যোগাযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, কারণ তাদের সামনে ছিল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

অভিভাবকরাও বিষয়টিকে চরম অব্যবস্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক অভিভাবক স্কুল প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রশাসনের অবস্থান

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রবেশপত্র বিতরণে দেরির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক মূল্যায়ন

পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে এমন ঘটনা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রশাসন—সব পক্ষের জন্যই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনাটি শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীনতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।