খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২৬, ৫:২ পিএম

চলমান ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ৪১ বছর বয়সে এসেও বর্তমান পর্তুগাল দলের আক্রমণভাগ পরিচালনার মূল দায়িত্ব রয়েছে তাঁর ওপর। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটিতে ১৪৩টি আন্তর্জাতিক গোলের বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী এই তারকাকে কিছুটা নিষ্প্রভ দেখা গেছে। এই একটি মাত্র ম্যাচের পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করেই ফুটবল পণ্ডিত এবং সমর্থকদের একাংশ পর্তুগাল দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
রোনালদো যখন এই তীব্র সমালোচনায় কোণঠাসা, ঠিক তখনই আজ থেকে তিন বছর আগে (২০২৩ সালে) ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির দেওয়া একটি সতর্কবার্তা নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কোহলিকেও তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষভাগে রোনালদোর মতোই প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, যার ফলে তিনি রোনালদোর এই অবস্থানের প্রতি একাধিকবার নিজের সংহতি প্রকাশ করেছেন।
Table of Contents
তিন বছর আগে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল এবং আল নাসরের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত ‘রিয়াদ অল-স্টার্স’-এর হয়ে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের দল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)-এর বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন রোনালদো। সেই ম্যাচটিতে রোনালদোর দল ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয় এবং পর্তুগাল তারকা একাই দুটি গোল করতে সক্ষম হন।
সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল পণ্ডিতদের ঢালাও সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে কোহলি লিখেছিলেন, “৩৮ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা যারা প্রতি সপ্তাহে স্রেফ প্রচার পাওয়ার জন্য তার সমালোচনা করেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্সের পর তারা আজ সুবিধাজনকভাবে চুপ হয়ে গেছেন। অথচ বলা হচ্ছিল তিনি নাকি ফুরিয়ে গেছেন!”
ফুটবলীয় বাস্তবতায় এটি সত্য যে, ৪১ বছর বয়সে এসে রোনালদো এখন আর আগের সেই গতিময় খেলোয়াড়টি নন—যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা জুভেন্টাসের হয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একাই তটস্থ করে রাখতেন। কিন্তু সমালোচকেরা অনেকেই এই পরিসংখ্যানটি এড়িয়ে যাচ্ছেন যে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমেও তিনি তাঁর ক্লাব আল নাসরের হয়ে ৩০টি ম্যাচ খেলে ২৮টি গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পর্তুগাল দলে তাঁর মূল সমস্যা আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে গতির বোঝাপড়ার অভাব; কারণ তাঁর বর্তমান সতীর্থরা রোনালদোর চেয়ে অনেক তরুণ, দ্রুতগতির এবং ইউরোপের অধিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ লিগে খেলে থাকেন।
| বিষয়/ক্ষেত্র | পরিসংখ্যান ও বিবরণ |
| বর্তমান বয়স | ৪১ বছর (২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী)। |
| আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড | ১৪৩টি গোল (ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ)। |
| ২০২৫-২৬ ক্লাব মৌসুমের পারফরম্যান্স | আল নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৮টি গোল। |
| বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচ | বনাম ডিআর কঙ্গো (ফলাফল: ১-১ ড্র)। |
| পরবর্তী আন্তর্জাতিক লক্ষ্য | বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচসমূহ। |
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে যখন পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়, তখনও রোনালদোর প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা লিখেছিলেন কোহলি। তিনি লিখেছিলেন, “কোনো ট্রফি বা খেতাবই এই খেলাধুলার প্রতি এবং বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে আপনার অবদানকে কেড়ে নিতে পারবে না। আপনি মানুষের মনে যে প্রভাব ফেলেছেন, তা কোনো খেতাব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। প্রতিবার মাঠে নেমে আপনি যেভাবে উজাড় করে খেলেন, তা কঠোর পরিশ্রম এবং উৎসর্গের এক অনন্য প্রতীক এবং যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্য এক সত্যিকারের অনুপ্রেরণা। আমার কাছে আপনিই সর্বকালের সেরা।”
বিশ্বকাপের পর রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিতে পারেন বলে ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। ২০১৯ সালে ফিফা ডট কম (FIFA.com)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কোহলি রোনালদোর কাজের প্রতি নিষ্ঠা সম্পর্কে বলেছিলেন, “আমার কাছে ক্রিশ্চিয়ানো সবার উপরে। তার প্রতিশ্রুতি এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা অতুলনীয়। প্রতি ম্যাচেই জেতার জন্য তার সেই তীব্র ক্ষুধা দেখা যায়। তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেন।”
দীর্ঘ সাত বছর পরেও রোনালদোর কাজের প্রতি সেই নিষ্ঠা বজায় রয়েছে। ভারতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের ৩ নম্বর পজিশনে যেভাবে কোহলি দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচকদের মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে জবাব দিয়েছেন, ঠিক একইভাবে রোনালদোও পর্তুগালের আগামী ম্যাচগুলোতে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর বিশ্বজোড়া ভক্তদের।
মন্তব্য