আইসিসি টি–টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা ৮ম অবস্থানে থাকলেও, ২০তম অবস্থানের ওমানকে ঘরের মাঠে পাল্লেকেলেতে ১০৫ রানে হারিয়ে দিয়েছে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তোলার পর ম্যাচের ফল অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন।
ওমানের ইনিংসের শুরু মৃদু ছিল। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে তারা ৩৬ রান তুলতে গিয়ে ৩ উইকেট হারায়। এরপর প্রতিপক্ষের চাপে ১০ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৬১/৩। তবে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ নাদিম ও ওয়াসিম আলীর ৩৬ বলে ৪২ রানের জুটি ওমান সমর্থকদের অল্প স্বস্তি দেয়। নাদিম প্রায় একাই লড়াই করে ৫৬ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করেন। ওয়াসিম আলী ২৭ ও “মি. এক্সট্রা” ১৫ রান করেন।
নাদিম (৪৩ বছর ১৬১ দিন) আইসিসি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফিফটি করা ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ফ্লাভিয়ান আপনসোরের (৪৩ বছর ১২১ দিন)। এছাড়া নাদিম টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে মন্থরতম ফিফটির রেকর্ডও গড়েছেন।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা আক্রমণাত্মক খেলায় মুগ্ধ করেছে। পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারে ৫৮ রান, পরবর্তী ৯ ওভারে ৮৮ রান আর শেষ ৫ ওভারে ৭৯ রান তুলতে তারা মাত্র ২ উইকেট হারায়। কুশল মেন্ডিস ৪৫ বলে ৬১, পবন রত্নায়েকে ২৮ বলে ৬০ এবং অধিনায়ক দাসুন শানাকা ২০ বলে ৫০ রান করে। শানাকা ১৯ বলে ফিফটি তুলে শ্রীলঙ্কার হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও স্থাপন করেন।
শ্রীলঙ্কার বোলিংও সমান কার্যকর ছিল। মহীশ তিকশানা ও দুষ্মন্ত চামিরা ২টি করে উইকেট নেন।
‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিল (সংক্ষেপ)
| দল | ম্যাচ | জয় | হার | পয়েন্ট | রানরেট | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|---|---|
| শ্রীলঙ্কা | ২ | ২ | ০ | ৪ | ৩.১২৫ | ১ম |
| অস্ট্রেলিয়া | ১ | ১ | ০ | ২ | ৩.৩৫০ | ২য় |
| জিম্বাবুয়ে | ১ | ১ | ০ | ২ | ২.৭০২ | ৩য় |
| আয়ারল্যান্ড | ২ | ০ | ২ | ০ | – | ৪র্থ |
| ওমান | ২ | ০ | ২ | ০ | – | ৫ম |
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
| দল | ইনিংস | প্রধান ব্যাটসম্যান | প্রধান বোলার |
|---|---|---|---|
| শ্রীলঙ্কা | ২০ ওভারে ২২৫/৫ | কুশল মেন্ডিস ৬১, রত্নায়েকে ৬০, শানাকা ৫০ | রামানন্দি ২/৪১, সুফিয়ান ১/৬০ |
| ওমান | ২০ ওভারে ১২০/৯ | নাদিম ৫৩*, ওয়াসিম ২৭ | তিকশানা ২/১১, চামিরা ২/১৯, ভেল্লালাগে ১/১৭ |
ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ১০৫ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: পবন রত্নায়েকে (শ্রীলঙ্কা)
শ্রীলঙ্কার এই জয় তাদের সুপার-এইট পর্যায়ে পৌঁছানোর পথকে আরও সহজ করেছে। অপরদিকে, ওমানের দৃশ্যত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত।
