ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড় যখন তুঙ্গে, তখন মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি কথার লড়াইও বেশ জমে উঠেছে। সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কিংবদন্তি মিডফিল্ডার পল শোলস আর্সেনালকে নিয়ে এক নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। শোলসের দাবি ছিল, আর্সেনাল যদি এবার প্রিমিয়ার লিগ জেতে, তবে তারা হবে লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে ‘বিরক্তিকর’ চ্যাম্পিয়ন দল। তবে এই সমালোচনাকে স্রেফ হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন গানারদের কোচ মিকেল আর্তেতা। উল্টো তিনি দাবি করেছেন, ইউরোপের ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে আর্সেনাল এখন মহাদেশের সবচেয়ে ‘রোমাঞ্চকর’ দল।
Table of Contents
শোলসের যুক্তি ও আর্তেতার পাল্টা জবাব
পল শোলস মূলত আর্সেনালের আক্রমণভাগের গোলখরা এবং সেট পিসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার দিকে আঙুল তুলেছেন। চলতি মৌসুমে লিগে গানারদের ফরোয়ার্ড লাইনের চার ফুটবলারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত গোল আসেনি। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ভিক্টর ডিওকেরেস লিগে মাত্র ৬টি গোল করেছেন। অন্যদিকে, আর্সেনাল এখন পর্যন্ত সেট পিস থেকে ১৭টি গোল করেছে, যা লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অন্তত ৩টি বেশি। শোলসের মতে, নান্দনিক ফুটবল নয় বরং কেবল সেট পিসের জোরে জেতা দল আকর্ষণীয় হতে পারে না।
এই সমালোচনার জবাবে আর্তেতা চেলসির বিপক্ষে কারাবাও কাপের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি পুরো উল্টোটা শুনি। পুরো ইউরোপ জুড়ে সবাই বলছে আমরা বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দল। আমাদের গোল সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট (গোল না খাওয়া) রেখেছি। সম্ভবত আমার এবং শোলসের তথ্যের উৎস ভিন্ন।” উল্লেখ্য, চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে আটটি ম্যাচের সবকটিতে জিতে আর্সেনাল এক অনন্য ইতিহাস গড়েছে।
শিরোপা জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা
আর্সেনাল গত শনিবার লিডস ইউনাইটেডকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে আর্তেতার নজর এখন কারাবাও কাপের দিকেও। ১৯৯৩ সালে জর্জ গ্রাহামের অধীনে সর্বশেষ লিগ কাপ জিতেছিল আর্সেনাল। দীর্ঘ সময় পর এই শিরোপা জেতার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না আর্তেতা। চেলসির বিপক্ষে প্রথম লেগে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দ্বিতীয় লেগটি গানারদের জন্য ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার সুবর্ণ সুযোগ।
আর্তেতা বলেন, “শিরোপা জয় একটি চক্রের মতো যা আপনি বারবার পুনরাবৃত্তি করতে চাইবেন। আমার দলের অনেকেই এর আগে কোনো বড় ট্রফি জেতেনি। তাদের মধ্যে এই জয়ের ক্ষুধা প্রবল। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।”
চেলসি শিবিরের পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
অন্যদিকে, চেলসির প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিওর এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালকে চাপে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছে আর্সেনাল। রোজেনিওর সেই দুর্বলতাকেই পুঁজি করতে চান। তিনি বলেন, “চেলসির খেলোয়াড়রা বড় ম্যাচে পারফর্ম করতে জানে। এনজো ফার্নান্দেজের মতো বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার আমাদের দলে আছে।” তবে ইনজুরি সমস্যায় জর্জরিত চেলসি এই ম্যাচে উইঙ্গার জেমি গিটেন্সকে পাচ্ছে না এবং এস্তেভাও উইলিয়ানের খেলা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
আর্সেনালের বর্তমান ফর্ম ও পরিসংখ্যানের চিত্র
নিচে চলতি মৌসুমে আর্সেনালের আধিপত্যের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | পরিসংখ্যান ও অর্জন |
| চ্যাম্পিয়নস লিগ পারফরম্যান্স | লিগ পর্বের ৮ ম্যাচের সবকটিতে জয় (প্রথম দল হিসেবে)। |
| প্রিমিয়ার লিগ অবস্থান | পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে (দ্বিতীয় দলের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে)। |
| সেট পিস গোল | ১৭টি (চলতি মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ)। |
| টানা সাফল্য | চেলসির বিপক্ষে গত ৯ ম্যাচে অপরাজিত। |
| লিগ কাপের ইতিহাস | সর্বশেষ জয় ১৯৯৩ সালে। |
উপসংহার ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
আর্সেনাল এবং চেলসির মধ্যকার এই লড়াইটি কেবল একটি ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেরও মঞ্চ। মিকেল আর্তেতার অধীনে আর্সেনাল যেভাবে রক্ষণ এবং আক্রমণভাগের ভারসাম্য বজায় রাখছে, তা ইউরোপীয় ফুটবলে আধুনিক ট্যাকটিকসের একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শোলসের মতো সমালোচকদের জবাব দেওয়ার সেরা উপায় হলো মাঠের সাফল্য। মঙ্গলবার রাতের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে যদি আর্সেনাল জয় পায়, তবে তারা কেবল ওয়েম্বলিতে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে না, বরং প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের পথেও বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাবে।
