শেরপুর, বাংলাদেশ — জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে শেরপুর-৩ আসনের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এই আসনে অন্তর্ভুক্ত উপজেলা দুটি হলো শ্রীবর্দী ও ঝিনাইগাতি। বাতিলের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (বাদল)-এর অকাল মৃত্যু অনুসরণে নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, যিনি শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী ইউনিটের সচিব পদে ছিলেন, দীর্ঘদিন কিডনির ক্রনিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৩:০০ টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ তথ্য জামায়াতে ইসলামী verified ফেসবুক পেজে সকাল ৩:২৪ টায় নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন কমিশনের Abdur Rahmanel Mashud প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, “প্রতিনিধি নির্বাচন সংক্রান্ত আইন (Representation of the People Order, RPO) অনুসারে কোনো প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন শূন্য বা বাতিল বলে গণ্য হবে। শেরপুর-৩-এর নতুন নির্বাচনের সময়সূচি যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে। ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার হারাবেন না, এবং পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনের পূর্বে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হবে।”
শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তথ্যের ধরন | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আসন | শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী ও ঝিনাইগাতি) |
| প্রার্থী | মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (বাদল) |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| পদ | শেরপুর জেলা ইউনিট সচিব |
| মৃত্যু তারিখ ও সময় | ৩ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৩:০০ টা |
| মৃত্যুর কারণ | কিডনিসংক্রান্ত রোগ |
| ইসির সিদ্ধান্ত | নির্বাচন বাতিল; নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা হবে |
প্রাথমিকভাবে এই ঘোষণা শেরপুর-৩-এর ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। তবে ইসি নিশ্চিত করেছে যে পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনের পূর্বে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থীর অকাল মৃত্যু নির্বাচনের রাজনৈতিক গতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং দলকে নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং প্রজাতান্ত্রিক নীতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনরায় জোর দিয়েছে। শেরপুর-৩-এর ভোটারদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, তারা নতুন সময়সূচির সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন এবং যথাযথভাবে ভোট প্রদানের প্রস্তুতি নিন।
