শেরপুরে র‌্যাবের অভিযানে তিন মাদক কারবারি আটক

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর ও দুপুরে পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৬০ বোতল ফেয়ারডিল, ২ বোতল ইস্কাফ সিরাপ এবং ২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডও জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-১২ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আন্তঃজেলা মহাসড়ক ব্যবহার করে যাত্রীবাহী বাসে মাদক পরিবহনের তথ্য পাওয়া গেলে সিপিএসসি বগুড়ার একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানটি চালানো হয় দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে। দিনাজপুর-টু-ঢাকাগামী একটি বাস শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের সনকা এলাকায় নাবিল হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট জামে মসজিদের সামনে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় মো. মামুনুর রশীদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ বোতল ফেয়ারডিল ও ২ বোতল ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালী থানার পশ্চিম রামনগর এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিরাপভিত্তিক মাদক বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত বলে স্বীকার করেছেন বলে র‌্যাব দাবি করেছে।

এর আগে একই দিন সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা-টু-ঠাকুরগাঁওগামী আরেকটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালানো হয়। শেরপুর থানাধীন শাহবন্দেগী ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি করলে ২৯ কেজি গাঁজাসহ মো. সুমন মিয়া (২৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম (২৭) নামের দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি বাটন মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সংঘবদ্ধ চক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে যাত্রীবাহী বাসকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষত আন্তঃজেলা মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে। ফেয়ারডিল ও ইস্কাফের মতো কোডিনসমৃদ্ধ সিরাপের অপব্যবহার তরুণ সমাজে আসক্তি বাড়াচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

নিচে অভিযানের সারসংক্ষেপ টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—

ক্র. নংআসামির নামবয়সঠিকানাউদ্ধারকৃত মাদকপরিমাণজব্দকৃত সামগ্রী
মো. মামুনুর রশীদ৪৫দিনাজপুর, কোতোয়ালীফেয়ারডিল, ইস্কাফ৬০ বোতল, ২ বোতল
মো. সুমন মিয়া২৮কুমিল্লা সদর দক্ষিণগাঁজা২৯ কেজি২ মোবাইল, ২ সিম
মো. সাইফুল ইসলাম২৭নীলফামারীগাঁজা (যৌথভাবে)২৯ কেজি (যৌথভাবে)২ মোবাইল, ২ সিম

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বগুড়া শেরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-১২ জানিয়েছে, মাদক নির্মূল ও নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতাই মাদক সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।