শেরপুরে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩০

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী আমেজ বিষাদে রূপ নিয়েছে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে। বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে আসন বিন্যাস এবং সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে পণ্ড হয়ে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘাতের বিবরণ

ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের সমর্থকরা উৎসবমুখর পরিবেশে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রার্থীরা যখন মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন, ঠিক তখনই দর্শক সারির সামনের দিকে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে এই বাগ্‌বিতণ্ডা হাতাহাতি ও পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মূহুর্তের মধ্যে পুরো স্টেডিয়াম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের সমর্থকরা একে অপরের ওপর চেয়ার ছুড়তে থাকেন এবং লাঠিপেটা করেন। এতে সভামঞ্চের সামনে থাকা শতাধিক প্লাস্টিকের চেয়ার এবং স্টেডিয়ামের বাইরে রাখা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ তৎপরতা চালিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেন।

নিচে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
ঘটনাস্থলঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম, শেরপুর।
আহতদের সংখ্যাউভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন।
ক্ষয়ক্ষতিশতাধিক চেয়ার ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাপুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ।
বর্তমান অবস্থাথমথমে পরিবেশ; পুলিশি নজরদারি জোরদার।

আহতদের চিকিৎসা ও বর্তমান পরিস্থিতি

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে। ঝিনাইগাতীর ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

ঘটনার পর উভয় দলের প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে দায়ী করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান পণ্ড করেছে। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল) দাবি করেছেন যে, জামায়াত কর্মীরাই উসকানিমূলক আচরণ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং স্টেডিয়ামসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই ধরনের সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।