অগ্রণী ব্যাংকে শেখ হাসিনার লকার থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ

রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে থাকা দুটি ব্যক্তিগত লকার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার নম্বর ৭৫১ ও ৭৫৩ খোলা হলে সেখান থেকে প্রায় ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়। এটিই প্রথমবার যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামে থাকা কোনো ব্যাংক লকার আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হলো।

গত ৫ আগস্ট এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার সরকারের পতনের পর থেকেই সাবেক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে সক্রিয় হয় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরই অংশ হিসেবে এনবিআরের সিআইসি এবং দুদক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সন্দেহভাজন হিসাব ও লকারগুলোর তালিকা তৈরি করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের এই প্রধান শাখার লকার দুটি সিআইসি কর্তৃক অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়া ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার ১২৮ নম্বর লকারটিও সিআইসি জব্দ করে।

উদ্ধারকৃত ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা। অভিযানের সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান যে, এই স্বর্ণের উৎস এবং অর্জনের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের হিসাব বিবরণী তৈরি করা হয়েছে এবং এর বিপরীতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু স্বর্ণ নয়, বিগত ১৫ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শেখ হাসিনার পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও লকারগুলোও পর্যায়ক্রমে তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এর ফলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় আরও জোরালো হবে।

জিলাইভ/টিএসএন