শুল্ক অভিযানে বিমানবন্দরে সিগারেট জব্দ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ শুল্ক অভিযানে প্রায় ২৭ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। পৃথক দুইটি ঘটনায় মোট ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়, যা আন্তর্জাতিক যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের আড়ালে চোরাচালানের মাধ্যমে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানিয়েছেন, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক আগমন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বিমানবন্দর শুল্ক বিভাগ।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে আন্তর্জাতিক আগমন হলের লাগেজ বেল্ট এলাকায়। সেখানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। পরে দ্বিতীয় ঘটনায় ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে আসা একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে আরও ২৮০ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়। ওই যাত্রীর নাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

অভিযান শেষে জব্দ করা সকল সিগারেট ও অন্যান্য সামগ্রী চট্টগ্রাম শুল্ক গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে মৌখিক সতর্কতা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জব্দ অভিযানের সারসংক্ষেপ

ঘটনাস্থলজব্দকৃত পণ্যপরিমাণআনুমানিক মূল্য
লাগেজ বেল্ট এলাকাসিগারেট১,০৬৫ কার্টনপ্রায় ২১ লাখ টাকা
যাত্রীর ব্যাগেজসিগারেট২৮০ কার্টনপ্রায় ৬ লাখ টাকা
মোট১,৩৪৫ কার্টনপ্রায় ২৭ লাখ টাকা

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মাধ্যমে অবৈধ সিগারেট ও অন্যান্য পণ্য পাচারের প্রবণতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে লাগেজ বেল্ট এলাকা এবং যাত্রী ব্যাগেজে তল্লাশি জোরদার করা হলেও চোরাচালান চক্র বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুল্ক বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে নজরদারি বাড়িয়েছে। যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সন্দেহভাজন ব্যাগেজ আলাদাভাবে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্যের প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।