,

শিশু ধর্ষণ মামলায় ফরিদপুরে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় রাজু শেখ নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র ও মামলার অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজু শেখের বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন থানায় মামলা করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এরপর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিচারক এসব সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রাজু শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী রতন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত রাজু শেখকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এরপর তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

শিশুকে কেন্দ্র করে যৌন সহিংসতার মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনো মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। এই মামলাতেও বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থাপিত তথ্য ও প্রমাণ মূল্যায়ন করেই আদালত রায় দিয়েছেন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সংঘটিত এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার দণ্ড ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত থাকায় সেখান থেকেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের দেওয়া রায়ে একদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে, অন্যদিকে জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও নথির ভিত্তিতেই আদালত এ দণ্ড দিয়েছেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।