সরকার ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ছুটির সময়সূচি ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল বিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এই সময়সূচি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ধর্মীয় উৎসব যেমন রমজান ও ঈদ, পাশাপাশি জাতীয় দিবস যেমন স্বাধীনতা দিবসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ছুটি শুরু হবে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং চলবে বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ পর্যন্ত। যেহেতু ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার, তাই শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের ছুটি শনিবার, ২৮ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিসপ্তাহের ছুটি (শনিবার ও রবিবার) স্বাভাবিকভাবে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত সরকারি নোটিফিকেশনে ছুটির পূর্ণ তালিকা ও শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রমসূচি সংযুক্ত করা হয়েছে। নির্দেশনার অনুযায়ী, সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬ দিনের ছুটিতে থাকবে। এই সময়ে রমজান, ঈদ ও অন্যান্য নির্ধারিত ছুটি অন্তর্ভুক্ত। মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও একই ছুটি অনুসরণ করবে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রশাসনিক পরিদর্শন, সরকারি সফর বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ রাখা যাবে না। ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বাইরে থাকতে বলা যাবে না। তবে ভর্তি কার্যক্রম বা অপরিহার্য কার্যক্রমের জন্য বিদ্যালয় খোলা রাখতে পারবে। বিশেষ দিন যেমন ২১ ফেব্রুয়ারি (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস), ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস), ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) এবং বাংলা নববর্ষ সকল বিদ্যালয়ে যথাযথ অনুষ্ঠানসহ উদযাপন করতে হবে।
নিম্নের টেবিলে শিক্ষাবর্ষের ছুটির বিস্তারিত প্রদর্শন করা হলো:
| বিদ্যালয়ের স্তর | ছুটির কারণ | তারিখ | মোট দিন |
|---|---|---|---|
| প্রাথমিক | রমজান ও ঈদ | ১৯ ফেব্রুয়ারি – ২৬ মার্চ | ২৬ |
| মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক | রমজান ও ঈদ | ১৯ ফেব্রুয়ারি – ২৬ মার্চ | ২৬ |
| প্রাথমিক | গ্রীষ্মকালীন অবকাশ | মে | ১০ |
| প্রাথমিক | ঈদুল আজহা | মে | গ্রীষ্মকালীন ১০ দিনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত |
| প্রাথমিক | শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিন | ডিসেম্বর | ৮ |
| প্রাথমিক | প্রধান শিক্ষকের সংরক্ষিত ছুটি | বছরের মধ্যে | ২ |
সাপ্তাহিক ছুটি বাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ছুটির দিন সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭।
নতুন সময়সূচি বিদ্যালয়কে তাদের শিক্ষাক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনা করতে এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ছুটির সুবিধা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণের সুযোগ দিতে সহায়ক। বিদ্যালয় প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে যে, তারা সরকারি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ছুটির observance মান্য করবেন যাতে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যায্য ও সুষম ছুটি নিশ্চিত হয়।
এই সময়সূচি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের উভয়ের জন্য এক সমন্বিত শিক্ষামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের বিশ্রাম ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠান উদযাপনের সুযোগ প্রদান করবে।
